রাজ্য – গ্রেট নিকোবরে ১৬০ বর্গকিলোমিটার বৃষ্টিঅরণ্য ধ্বংসের মুখে—এমন অভিযোগ তুলে কেন্দ্রীয় সরকারকে তীব্র আক্রমণ করলেন কংগ্রেস নেতা Rahul Gandhi। তাঁর দাবি, লক্ষ লক্ষ গাছ কেটে ফেলার জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে, যা দেশের প্রাকৃতিক ও আদিবাসী ঐতিহ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি।
সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্ট করে রাহুল বলেন, সরকার এই উদ্যোগকে ‘প্রকল্প’ বললেও বাস্তবে এটি এক ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ। তাঁর ভাষায়, কুঠারের আঘাতে বলি হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে এক বিশাল বৃষ্টিঅরণ্য। Great Nicobar Island-এর এই অরণ্য শুধু প্রাকৃতিক সম্পদ নয়, বরং স্থানীয় জনজাতির জীবন ও সংস্কৃতির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সম্প্রতি গ্রেট নিকোবর সফরে গিয়ে এই অরণ্য পরিদর্শন করেন রাহুল গান্ধী। এরপরই ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি একে দেশের প্রাকৃতিক ও আদিবাসী ঐতিহ্যের বিরুদ্ধে অন্যতম বড় আঘাত বলে অভিহিত করেন। তাঁর দাবি, এই গাছগুলির অনেকই এত প্রাচীন যে মানবস্মৃতিরও আগের। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে স্থানীয় মানুষ এই অরণ্যের যত্ন নিয়েছেন, অথচ এখন তাঁদের সেই অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।
এই প্রকল্পকে ঘিরে ইতিমধ্যেই বিতর্ক তৈরি হয়েছে। National Green Tribunal এই প্রকল্পে সবুজ সংকেত দিলেও তার তীব্র সমালোচনা করেছে কংগ্রেস। আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের দক্ষিণ প্রান্তে একটি ট্রান্সশিপমেন্ট ও লজিস্টিক হাব তৈরির পরিকল্পনা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
এই প্রসঙ্গে কংগ্রেস নেত্রী Sonia Gandhi-ও আগে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। তিনি ওই অঞ্চলের সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্য ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সুরক্ষার কথা উল্লেখ করে কেন্দ্রকে পরিকল্পনাটি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
এক সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাহুল বলেন, তিনি বেশি কথা বলতে চান না, বরং স্থানীয় মানুষের কথা শুনতেই এসেছেন। পাশাপাশি তিনি আশ্বাস দেন, তাঁদের জন্য যা প্রয়োজন, তা করার চেষ্টা করা হবে। পরবর্তীতে বিষয়টি সংসদেও উত্থাপন করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
সব মিলিয়ে, গ্রেট নিকোবরের বৃষ্টিঅরণ্যকে কেন্দ্র করে পরিবেশ ও উন্নয়নের দ্বন্দ্ব নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ককে উসকে দিল।




















