রাজ্য- বুধবার রাজ্যে দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের আগে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে নির্বাচন কমিশন ফের একদফা অতিরিক্ত বা সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে। এই তালিকায় যাঁদের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, তাঁরা বুধবার ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। তবে কতজন ‘যোগ্য ভোটার’ হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছেন, সেই চূড়ান্ত সংখ্যা এখনও স্পষ্টভাবে জানানো হয়নি। কমিশন সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার বিকেল নাগাদ সেই সংখ্যা প্রকাশ করা হতে পারে।
এর আগে তালিকাটি বুথে বুথে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে, যাতে সংশ্লিষ্ট ভোটাররা নিজেদের নাম যাচাই করতে পারেন। মূলত যাঁদের নাম নিয়ে ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন ছিল, তাঁদের মধ্যে যাঁদের আবেদন নিষ্পত্তি হয়েছে, তাঁদেরই এই সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রথম দফা ভোটের আগে প্রায় সাড়ে চার হাজার ‘বিচারাধীন’ ভোটারের মধ্যে মাত্র ১৩৯ জনকে ‘যোগ্য’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল, ফলে এবার সেই সংখ্যায় কতটা পরিবর্তন হয় তা নিয়ে রাজনৈতিক মহল ও ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
দ্বিতীয় তথা শেষ দফায় রাজ্যের সাতটি জেলার মোট ১৪২টি আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। যদিও নিয়ম অনুযায়ী এই পর্বের ভোটার তালিকা আগেই ‘ফ্রিজ’ হয়ে গিয়েছিল, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী ট্রাইব্যুনালে যেসব নামের নিষ্পত্তি ভোটের ঠিক আগে হয়েছে, সেগুলিকে সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই অনুযায়ী সোমবার রাতেও আরও একটি অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ করেছে কমিশন।
ভোটের আগে রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর বিবেচনাধীন ভোটারের সংখ্যা ছিল ৬০ লক্ষেরও বেশি। তাঁদের যাচাই ও নিষ্পত্তির জন্য প্রাক্তন বিচারপতিদের নিয়ে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়, যাতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়। রাজনৈতিক দলগুলি—শাসক ও বিরোধী উভয়ই—এই প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার দাবি তুলেছিল, যার পর বিষয়টি সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ায়। আদালতের নির্দেশ মেনেই একে একে নাম নিষ্পত্তি করে ট্রাইব্যুনাল।
তবে সোমবার পর্যন্ত কতজনের নাম এই চূড়ান্ত নিষ্পত্তির ভিত্তিতে ভোটার তালিকায় যুক্ত হয়েছে, তা নিয়ে এখনও স্পষ্ট তথ্য মেলেনি। ফলে বুধবার ভোটের আগে শেষ মুহূর্তে কারা ভোট দিতে পারবেন, সেই প্রশ্নই এখন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।




















