রাজ্য – ছাব্বিশের ভোটের আবহে রাজনীতির অন্দরমহলে এখন নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে তমলুকের বিজেপি সাংসদ তথা প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। একসময় যাঁর একের পর এক রায় নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি করেছিল, সেই তিনিই এবার ভোটপ্রচারের মাঠে কার্যত ‘নিখোঁজ’ বলে দাবি করছে একাংশ। বিচারকক্ষ থেকে রাজনীতিতে এসে বিজেপির টিকিটে সাংসদ হওয়ার পর তাঁর কড়া মন্তব্যও তাঁকে বারবার শিরোনামে এনেছিল।
কিন্তু এবারের নির্বাচনী প্রচারে তমলুক লোকসভা ও সংশ্লিষ্ট বিধানসভা এলাকাগুলিতে তাঁকে দেখা যাচ্ছে না বলেই অভিযোগ উঠছে। এমনকি পূর্ব পাঁশকুড়া বিধানসভা এলাকায় তাঁর ‘অনুপস্থিতি’ নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক পোস্টারও পড়েছে, যেখানে লেখা— “মিসিং বিজেপি এমপি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়, এমপি তমলুক লোকসভা।” বিষয়টি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা।
একাংশের দাবি, তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ, তাই সরাসরি প্রচারে নেই। আবার অন্য একটি ব্যাখ্যা, দলীয় কৌশল বা নিরাপত্তাজনিত কারণে তাঁকে আপাতত প্রচারের বাইরে রাখা হয়েছে। যদিও এসব নিয়েও কোনও স্পষ্ট সরকারি বা দলীয় ব্যাখ্যা মেলেনি। বিজেপির স্থানীয় প্রার্থী সুব্রত মাইতি অবশ্য দাবি করেছেন, অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় হলদিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর সভায় উপস্থিত ছিলেন এবং সেখানে নিজের অসুস্থতার কথা জানিয়েছিলেন।
তবে প্রশ্ন উঠছে, অসুস্থ হলেও কি তিনি অন্তত ভিডিও বার্তা বা সামাজিক মাধ্যমে দলের সমর্থনে কিছু বার্তা দিতে পারতেন না— এই নিয়েও আলোচনা চলছে রাজনৈতিক মহলে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের একাংশের মন্তব্যও বিতর্ক আরও বাড়িয়েছে। কয়েকদিন আগে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়কে প্রার্থী হিসেবে তারা প্রথম পছন্দ হিসেবে চাননি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, গত বছর হিন্দিভাষী নেতাদের এনে বাংলায় প্রচার নিয়ে অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের মন্তব্য বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্বকে অস্বস্তিতে ফেলেছিল। তিনি প্রকাশ্যে বলেছিলেন, পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক বাস্তবতা আলাদা, দিল্লি বা উত্তর ভারতের নেতারা তা পুরোপুরি বোঝেন না। সেই মন্তব্যের পর থেকেই তাঁর সঙ্গে দলীয় দূরত্ব তৈরি হয়েছিল কি না, সেই প্রশ্নও এখন ঘুরছে রাজনৈতিক মহলে।
সব মিলিয়ে, ভোটের ঠিক আগে অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের এই ‘নীরবতা’ এবং অনুপস্থিতি ঘিরে তৈরি হয়েছে একাধিক প্রশ্ন, যার উত্তর এখনও অধরা। ফলে তমলুক কেন্দ্র এখন রাজনৈতিক কৌতূহলের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।




















