বিনোদন – ‘The Kerala Story 2’-এর মুক্তি ঘিরে তৈরি হওয়া আইনি জটিলতা আপাতত কাটল। কেরল হাইকোর্ট ছবিটির উপর জারি থাকা স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করেছে। শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি মুক্তির কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তা আটকে যায়। তবে আদালতের নতুন নির্দেশে ছবির মুক্তির পথ আবারও খুলে গেল।
মামলার শুনানিতে সেন্সর প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। পরবর্তীতে বিচারপতি S A Dharmadhikari ও P V Balakrishnan-এর ডিভিশন বেঞ্চ আগের আদেশ বাতিল করে দেয়। আদালত জানায়, সেন্ট্রাল বোর্ড অফ ফিল্ম সার্টিফিকেশন-এর ছাড়পত্র পাওয়া ছবির মুক্তি স্থগিত রাখার প্রয়োজন নেই। শুক্রবার বিকেল ৪টেয় স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করা হয়। যদিও নির্ধারিত দিনে মুক্তি সম্ভব হয়নি, নতুন মুক্তির দিনক্ষণ পরে জানাবেন নির্মাতারা।
এই মামলার সূত্রপাত জীববিদ্যা বিশেষজ্ঞ শ্রীদেব নাম্বোদরির দায়ের করা অভিযোগ থেকে। তাঁর দাবি ছিল, ছবির ট্রেলারে কেরলকে অত্যন্ত নেতিবাচকভাবে তুলে ধরা হয়েছে, যা সমাজে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে। প্রাথমিক শুনানিতে আদালত পিটিশনারের আশঙ্কাকে ‘সম্ভবত’ সত্যি বলেই মন্তব্য করেছিল। এরপরই মুক্তিতে স্থগিতাদেশ দেওয়া হয় এবং সেন্সর বোর্ডও ভর্ৎসনার মুখে পড়ে।
ছবির টিজার ও ট্রেলার প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই বিতর্ক দানা বাঁধে। সেখানে একাধিক ভীতসন্ত্রস্ত নারীর কাহিনির মাধ্যমে জোরপূর্বক ধর্মান্তরিতকরণের অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে। চরিত্রদের মধ্যে রয়েছেন সুরেখা নাইয়ার ও নেহা সন্তের মতো নাম। নেপথ্য কণ্ঠে শোনা যায়, ‘আমাদের মেয়েরা প্রেমে পড়ে না, ফাঁদে পড়ে। এবার থেকে আর সহ্য করবে না তারা, ঘুরে দাঁড়াবে।’
টিজার-ট্রেলারে দেখানো হয়েছে—কেউ আইএএস অফিসার হওয়ার স্বপ্ন দেখত, কেউ প্রতিষ্ঠিত নৃত্যশিল্পী হতে চাইত, কেউ আবার ভালোবাসার টানে হিন্দু থেকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণের কথা বলেছে। কিন্তু সেই স্বপ্ন ভেঙে যায়—এমনটাই তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে দেশকে মুসলিম অধ্যুষিত রাষ্ট্রে পরিণত করার পরিকল্পনার ইঙ্গিতও রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এই কারণেই প্রথম পর্বের মতোই ছবির বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িকতার অভিযোগ উঠেছে।
সব মিলিয়ে বিতর্ক, আইনি টানাপোড়েন এবং আদালতের হস্তক্ষেপের পর অবশেষে মুক্তির পথে The Kerala Story 2।




















