দক্ষিণ দিল্লিতে পাঁচতলা আবাসিক ভবন ধস, ধ্বংসস্তূপে আটকে বহুজনের আশঙ্কা

দক্ষিণ দিল্লিতে পাঁচতলা আবাসিক ভবন ধস, ধ্বংসস্তূপে আটকে বহুজনের আশঙ্কা

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram



দিল্লী – দক্ষিণ দিল্লির মেহরাউলি এলাকায় শনিবার সন্ধ্যায় ভয়াবহ দুর্ঘটনায় হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল একটি পাঁচতলা আবাসিক ভবন। ঘটনায় মুহূর্তের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়। প্রশাসনের প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী এখনও পর্যন্ত কোনও মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা না হলেও ধ্বংসস্তূপের নিচে একাধিক ব্যক্তি আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

উদ্ধারকারী দল ইতিমধ্যেই চারজনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করেছে। তাঁদের সামান্য আঘাত লেগেছে বলে জানা গিয়েছে। তবে ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও মানুষ চাপা পড়ে থাকার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। ফলে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলছে উদ্ধার অভিযান।

পুলিশ সূত্রে খবর, শনিবার সন্ধ্যা ৭টা ৪৪ মিনিট নাগাদ মেহরাউলির সাঈদুল আজাব এলাকার ওই বহুতল ভবনটি আচমকাই ধসে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, প্রথমে বিকট শব্দ শোনা যায়, তারপর কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই গোটা ভবনটি মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। ঘটনাস্থলের আশপাশের বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন এবং প্রাথমিক উদ্ধারকাজে হাত লাগান।

খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় দিল্লি পুলিশ, দমকল বাহিনী এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সদস্যরা। দুর্ঘটনার পর গোটা এলাকা ঘিরে ফেলা হয়েছে এবং উদ্ধারকাজ নির্বিঘ্নে চালানোর জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা মানুষদের খুঁজে বের করতে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হচ্ছে। উদ্ধারকারী দল জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া চারজনকে চিকিৎসার জন্য নিকটবর্তী হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে ভবনটি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ায় ধ্বংসস্তূপের পরিমাণ অত্যন্ত বেশি। ফলে এখনও কতজন ভিতরে আটকে রয়েছেন, সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

প্রশাসনের আশঙ্কা, ভবনের বিভিন্ন তলায় থাকা কয়েকজন বাসিন্দা এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকতে পারেন। উদ্ধারকর্মীরা সতর্কতার সঙ্গে কংক্রিট ও লোহার স্তূপ সরিয়ে সম্ভাব্য জীবিতদের সন্ধান চালাচ্ছেন। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে অতিরিক্ত উদ্ধারকারী দলও মোতায়েন করা হয়েছে।

দুর্ঘটনার কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। ভবনটি কত বছরের পুরনো ছিল, নির্মাণগত কোনও ত্রুটি ছিল কি না অথবা সম্প্রতি সেখানে কোনও সংস্কার বা অতিরিক্ত নির্মাণকাজ চলছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, ভবনটিতে দীর্ঘদিন ধরেই কাঠামোগত সমস্যা ছিল। যদিও প্রশাসনের তরফে এই দাবির সত্যতা এখনও নিশ্চিত করা হয়নি।

পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধারকাজ শেষ হওয়ার পর বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। ভবনের নির্মাণ নকশা, অনুমোদনপত্র এবং রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত সমস্ত নথি খতিয়ে দেখা হবে। কারও গাফিলতি বা নিয়মভঙ্গের প্রমাণ মিললে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।

এদিকে এই দুর্ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। আশপাশের বহুতল ভবনের বাসিন্দারাও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। প্রশাসন জানিয়েছে, উদ্ধার অভিযান সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনাস্থলের আশপাশে বিশেষ নজরদারি চালানো হবে। দিল্লি পুলিশ, দমকল ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সদস্যরা রাতভর উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা সম্ভাব্য ব্যক্তিদের দ্রুত উদ্ধার করাই এখন প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য। একইসঙ্গে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে বিস্তারিত তদন্তের প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top