রাজ্য – বিধানসভা ভোটের আগে কর্মসংস্থান ও সরকারি কর্মীদের ইস্যুকে সামনে রেখে একাধিক বড় প্রতিশ্রুতি দিল বিজেপি। মথুরাপুরের জনসভা থেকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ঘোষণা করেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে রাজ্য সরকারি চাকরির সব শূন্যপদ দ্রুত পূরণ করা হবে এবং সরকারি চাকরির বয়সসীমা পাঁচ বছর বাড়ানো হবে। পাশাপাশি সপ্তম বেতন কমিশন কার্যকর করার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
সভামঞ্চ থেকে শাহের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যে সরকারি চাকরিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া কার্যত স্থগিত রয়েছে, যার ফলে বহু যুবক-যুবতী সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। সেই পরিস্থিতি বদলাতে ক্ষমতায় এলে দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
চাকরি সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি প্রসঙ্গে তিনি জানান, সরকার গঠনের পর দুই মাসের মধ্যে শূন্যপদ পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে সব শূন্যপদ পূরণ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। দীর্ঘদিন নিয়োগ বন্ধ থাকায় বহু চাকরিপ্রার্থী বয়সসীমা অতিক্রম করেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। সেই কারণেই সরকারি চাকরির বয়সসীমা পাঁচ বছর বৃদ্ধি করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে বলে জানান কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
রাজ্য সরকারি কর্মীদের উদ্দেশেও বড় বার্তা দেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এলে ৪৫ দিনের মধ্যে সপ্তম বেতন কমিশন কার্যকর করা হবে। শাহ দাবি করেন, দেশের অন্যান্য রাজ্যে সরকারি কর্মীরা সপ্তম বেতন কমিশনের সুবিধা পেলেও পশ্চিমবঙ্গে এখনও ষষ্ঠ বেতন কমিশনের কাঠামো কার্যকর রয়েছে। এই বৈষম্য দূর করাই তাঁদের লক্ষ্য বলে জানান তিনি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চাকরি, বেতন কাঠামো এবং যুবসমাজ—এই তিন ইস্যুকেই সামনে রেখে বিজেপি নির্বাচনী প্রচার জোরদার করছে। সরকারি কর্মচারী ও চাকরিপ্রার্থীদের লক্ষ্য করেই এই প্রতিশ্রুতিগুলি দেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। ভোটের আগে কর্মসংস্থানের প্রশ্ন যে অন্যতম বড় রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠছে, মথুরাপুরের সভা তারই স্পষ্ট ইঙ্গিত দিল।



















