ফের আদালতে ধাক্কা ট্রাম্পের, ১০ শতাংশ আমদানি শুল্ককে অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের

ফের আদালতে ধাক্কা ট্রাম্পের, ১০ শতাংশ আমদানি শুল্ককে অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


বিদেশ – মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর শুল্কনীতি ফের বড় ধাক্কার মুখে। এবার তাঁর চাপানো ১০ শতাংশ আমদানি শুল্ককে অবৈধ ঘোষণা করল মার্কিন বাণিজ্য আদালত। আদালতের পর্যবেক্ষণ, ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের যে ধারা ব্যবহার করে এই শুল্ক কার্যকর করা হয়েছিল, তা সঠিকভাবে প্রয়োগ করা হয়নি। ফলে এই অতিরিক্ত শুল্ক কোনওভাবেই যুক্তিসঙ্গত নয় বলেই মত বিচারপতিদের।
গত ২৪ ফেব্রুয়ারি আমেরিকায় আমদানিকৃত সমস্ত পণ্যের উপর ১০ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছিলেন ট্রাম্প। এর আগে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উপর একাধিক উচ্চহারে শুল্ক আরোপ করেছিলেন তিনি। কোথাও ৫০ শতাংশ, কোথাও আবার ১৮ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক ধার্য করা হয়েছিল। ট্রাম্প প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে শুরু থেকেই বিতর্ক তৈরি হয় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মহলে।
এই শুল্কনীতির বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের হয় আদালতে। আগেই মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের বাণিজ্যিক শুল্কনীতির কিছু অংশকে বেআইনি বলে মন্তব্য করেছিল। সেই প্রেক্ষিতেই নতুন করে ১০ শতাংশ আমদানি শুল্ক কার্যকর করেন ট্রাম্প। রাজনৈতিক মহলের মতে, এটি ছিল সুপ্রিম কোর্টের অবস্থানের বিরুদ্ধে কার্যত পালটা বার্তা।
ট্রাম্প প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আমেরিকার ২৪টি রাজ্যের ছোট ব্যবসায়ীরা আদালতের দ্বারস্থ হন। বৃহস্পতিবার মামলার রায় দিতে গিয়ে বিচারপতিরা জানান, ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ১২২ ধারা প্রয়োগে গুরুতর ত্রুটি ছিল। সেই কারণেই অতিরিক্ত শুল্ককে বাতিল বলে গণ্য করা হচ্ছে।
আদালতের এই নির্দেশকে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। কারণ, এই রায়ের ফলে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে আদায় করা অতিরিক্ত অর্থ ফেরত দেওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। যদিও আদালতের রায়ের পরই গোটা দেশে এই শুল্ক সম্পূর্ণভাবে উঠে যাচ্ছে না। আপাতত যেসব সংস্থা মামলা দায়ের করেছিল, তারাই এই সিদ্ধান্তের সরাসরি সুবিধা পাবে।
রায় প্রকাশ্যে আসতেই ফের আক্রমণাত্মক সুরে প্রতিক্রিয়া দেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, “উগ্র বামপন্থী দুই বিচারক এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে আদালতের এই ধরনের রায়ে এখন আর অবাক হই না।” পাশাপাশি এই নির্দেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
এই ঘটনার পর ফের একবার মার্কিন প্রশাসন ও বিচারব্যবস্থার সংঘাত সামনে এল বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক মহল। একইসঙ্গে ট্রাম্পের অর্থনৈতিক নীতি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কৌশল নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top