রাজ্য – পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির প্রথম সরকার গঠনের ঐতিহাসিক মুহূর্তকে ঘিরে জোর প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। আগামী ৯ মে মধ্য কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে নতুন সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান হওয়ার কথা। রাজনৈতিক মহলের নজর এখন সেই অনুষ্ঠান ঘিরেই। সূত্রের খবর, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেন।
দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক লড়াইয়ের পর পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। রাজ্যে নিজেদের সংগঠন বিস্তার থেকে শুরু করে ক্ষমতার কেন্দ্রে পৌঁছতে দলকে দীর্ঘ সংগ্রামের পথ অতিক্রম করতে হয়েছে। সেই কারণেই এই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানকে বিজেপি শুধু রাজনৈতিক নয়, প্রতীকী দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে।
শুধু মোদি বা শাহ নন, অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেন একাধিক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন এবং বিজেপি শাসিত বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরাও। ফলে ব্রিগেডের অনুষ্ঠান জাতীয় রাজনীতিরও অন্যতম বড় আকর্ষণ হয়ে উঠতে চলেছে।
যদিও এখনও পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি, তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীই এই পদের জন্য সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। পাশাপাশি রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার এবং প্রাক্তন রাজ্যসভার সাংসদ স্বপন দাশগুপ্তের নামও আলোচনায় রয়েছে।
শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের ঘোষণা করতে গিয়ে শমীক ভট্টাচার্য জানান, “নতুন বিজেপি সরকার ৯ মে সকাল ১০টায় ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে শপথগ্রহণ করবে।” ইতিমধ্যেই অনুষ্ঠানকে ঘিরে প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা প্রস্তুতি শুরু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এবারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হতে চলেছে পঁচিশে বৈশাখের দিন। এই দিনটিই কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মবার্ষিকী হিসেবে সমগ্র বাংলায় পালিত হয়। ফলে রাজনৈতিক অনুষ্ঠান হলেও এর সঙ্গে জুড়ে গিয়েছে এক বিশেষ সাংস্কৃতিক আবহ।
নির্বাচনী প্রচারে অমিত শাহ একাধিকবার দাবি করেছিলেন যে, বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হবেন একজন “ভূমিপুত্র”, যিনি এই রাজ্যের মাটিতেই জন্মেছেন ও বেড়ে উঠেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিজেপি এই বার্তার মাধ্যমে নিজেদের বাংলার সংস্কৃতি ও আবেগের সঙ্গে যুক্ত করার কৌশল নিয়েছে।
বিজেপির একাংশ মনে করছে, পঁচিশে বৈশাখে শপথগ্রহণ আয়োজন সেই বৃহত্তর রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কৌশলেরই অংশ। বাংলার ঐতিহ্য ও বুদ্ধিবৃত্তিক পরিসরের সঙ্গে নিজেদের সম্পর্ক তুলে ধরতেই এই বার্তা দেওয়া হচ্ছে বলে মত রাজনৈতিক মহলের।
এদিকে ভবানীপুর এবং নন্দীগ্রাম—দুটি কেন্দ্র থেকেই জয়ী হওয়া শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, দলের নির্দেশ অনুযায়ী তিনি একটি আসন ছেড়ে দেবেন। কোন আসনটি রাখা হবে, সেই সিদ্ধান্ত নেবে দল। পাশাপাশি তিনি বলেন, ভবানীপুর ও নন্দীগ্রামের মানুষের প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতা ভবিষ্যতেও অটুট থাকবে।




















