রাজ্য – নীতি আয়োগের ভাইস চেয়ারম্যান পদে নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করলেন প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ Ashok Lahiri। শুক্রবার দিল্লির NITI Aayog ভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন বালুরঘাটের প্রাক্তন বিজেপি বিধায়ক। এর মধ্য দিয়ে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের পর নতুন প্রশাসনিক অধ্যায়ের সূচনা হল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহল।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে উত্তরবঙ্গের বালুরঘাট কেন্দ্র থেকে বিজেপির টিকিটে জয়ী হয়েছিলেন অশোক লাহিড়ী। তবে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তাঁকে আর প্রার্থী করেনি দল। বিজেপির প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর থেকেই তাঁকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছিল। বিশেষ করে তাঁর নাম তালিকায় না থাকায় ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে থাকে।
পরবর্তীতে স্পষ্ট হয়, নির্বাচনী রাজনীতি থেকে সরিয়ে তাঁকে আরও বড় প্রশাসনিক ও নীতিনির্ধারণমূলক দায়িত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে কেন্দ্র। প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi-র নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার তাঁকে নীতি আয়োগের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের ভাইস চেয়ারম্যান পদে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়। উল্লেখযোগ্যভাবে, এ রাজ্যে প্রথম দফার ভোট শেষ হওয়ার পর এক শুক্রবারেই তাঁর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছিল।
দায়িত্ব গ্রহণের আগে দিল্লিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎও করেন অশোক লাহিড়ী। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই নিয়োগ স্পষ্ট করে দিল যে অর্থনৈতিক নীতি ও প্রশাসনিক পরিকল্পনার ক্ষেত্রে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতাকে এবার জাতীয় স্তরে আরও বড়ভাবে কাজে লাগাতে চাইছে কেন্দ্র।
অশোক লাহিড়ীর প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক অভিজ্ঞতা দীর্ঘদিনের। তিনি একসময় ভারত সরকারের প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের সদস্য হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন। অর্থনীতি ও আর্থিক নীতির ক্ষেত্রে তাঁর অভিজ্ঞতা জাতীয় স্তরে বহুদিন ধরেই স্বীকৃত।
সংসদীয় রাজনীতির কারণে কিছু সময় বাংলার সক্রিয় রাজনীতিতে থাকলেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে তাঁর সুসম্পর্ক অটুট ছিল বলেই মনে করে রাজনৈতিক মহল। গত ১৪ মার্চ কলকাতার Brigade Parade Ground-এ বিজেপির মহাসমাবেশেও সেই সম্পর্কের ইঙ্গিত স্পষ্ট হয়েছিল বলে মত ওয়াকিবহাল মহলের। সেদিন ভাষণ শেষে মঞ্চ ছাড়ার আগে প্রধানমন্ত্রী যাঁদের সঙ্গে আলাদা করে কথা বলেছিলেন, তাঁদের মধ্যে ছিলেন অশোক লাহিড়ীও।
রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের মতে, পোড়খাওয়া এই অর্থনীতিবিদের অভিজ্ঞতা এবার জাতীয় পরিকল্পনা, উন্নয়ন এবং নীতিনির্ধারণের কাজে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। নীতি আয়োগের দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে তাঁর নতুন অধ্যায়ের আনুষ্ঠানিক সূচনা হল।




















