রাজ্য- রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের আবহে এবার দ্রুত বদলে যাচ্ছে West Bengal Legislative Assembly চত্বরের চেহারা। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার আগে প্রশাসনিক স্তরে শুরু হয়েছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি। নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার পাশাপাশি চলছে সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ। শপথগ্রহণের আগেই গোটা বিধানসভা ভবনকে নতুনভাবে সাজিয়ে তোলাই এখন প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, আপাতত বিধানসভার স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, মুখ্য সচেতক এবং সহকারী মুখ্য সচেতকের দফতর বন্ধ রাখার নির্দেশ জারি হয়েছে। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার এই নির্দেশ কার্যকর থাকবে। ওই কক্ষগুলিতে কোনও কর্মী বা বহিরাগতকে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না বলেও জানানো হয়েছে। নতুন মন্ত্রিসভা শপথ নেওয়ার পর ফের নিয়মিত প্রশাসনিক কাজ শুরু হতে পারে।
বিধানসভার ভিতরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে বড়সড় রদবদল। বিদায়ী সরকারের বিভিন্ন চিহ্ন সরিয়ে ফেলার কাজ চলছে জোরকদমে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee-র ছবি মন্ত্রীদের কক্ষ ও ভবনের একাধিক অংশ থেকে খুলে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভবনের বিভিন্ন জায়গায় সংস্কারের কাজও শুরু হয়েছে। কোথাও বৈদ্যুতিক লাইনের সমস্যা মেরামত করা হচ্ছে, কোথাও আবার শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র সারাইয়ের কাজ চলছে। গোটা বিধানসভা জুড়েই চলছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিশেষ অভিযান।
শুধু মূল ভবন নয়, অ্যানেক্স বিল্ডিংয়েও বেড়েছে প্রশাসনিক তৎপরতা। পূর্ত দফতরের আধিকারিকরা নিয়মিত সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছেন এবং কর্মীদের নতুন নির্দেশ দিচ্ছেন। প্রশাসনিক মহলের একাংশের অনুমান, ওই ভবনেই তৈরি হতে পারে নতুন মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয়। সেই কারণেই সেখানে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে।
বিধানসভা চত্বরে গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলিতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর নির্ধারিত কক্ষের সামনের করিডরেও বসানো হয়েছে কড়া প্রহরা। প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার আগেই নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক পরিকাঠামো সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত রাখতে চাইছে সরকার।
আগামী শনিবার নতুন সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান হওয়ার কথা রয়েছে। যদিও এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছাড়েননি Mamata Banerjee। তবে সাংবিধানিক নিয়ম মেনে রাজ্যপাল R. N. Ravi আগের সরকার ভেঙে দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর।
ভারতীয় সংবিধানের ১৭৪ নম্বর অনুচ্ছেদের আওতায় সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই মুখ্যসচিব Dushmanta Nariyala-র তরফে বিজ্ঞপ্তি জারি করে পুরনো বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার বিষয়টি জানানো হয়েছে। রাজনৈতিক পালাবদলের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রশাসনিক ক্ষেত্রেও যে দ্রুত পরিবর্তনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে, বিধানসভার সাম্প্রতিক পরিস্থিতি তারই স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে।




















