রাজ্য – রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের জন্য দ্বিতীয় দফার প্রার্থী তালিকা ঘোষণা হতেই বারাসতে বিজেপির অন্দরে চরম অশান্তির ছবি সামনে এল। বৃহস্পতিবার বিকেলে দলীয় সদর দফতর থেকে ১১১টি আসনের প্রার্থীর নাম প্রকাশ করা হয়। তার পরেই বারাসতে ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটে। প্রার্থী হিসেবে প্রাক্তন জেলা সভাপতি শঙ্কর চট্টোপাধ্যায়-এর নাম ঘোষণার পরই দলের একাংশের কর্মী-সমর্থকরা বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। অভিযোগ ওঠে, তাঁর বিরুদ্ধে তৃণমূলের থেকে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে, যা ঘিরে ইতিমধ্যেই দেওয়ালে দেওয়ালে পোস্টার পড়তে শুরু করেছে।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে একই কেন্দ্র থেকে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন শঙ্কর চট্টোপাধ্যায়। সেই নির্বাচনে তাঁকে হারিয়ে জয়ী হয়েছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী, অভিনেতা চিরঞ্জিত চক্রবর্তী। তবে আসন্ন ২০২৬ সালের নির্বাচনে আবারও শঙ্করের উপর আস্থা রেখেছে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব, যার মধ্যে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
দলীয় সূত্রে এবং স্থানীয় কর্মীদের অভিযোগ, ২০২১ সালের ভোটের সময় শঙ্কর চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। দাবি করা হয়, তিনি তৃণমূল প্রার্থী চিরঞ্জিত চক্রবর্তী-র ঘনিষ্ঠ মহলের মাধ্যমে নির্বাচনী কৌশল সংস্থা আইপ্যাকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ গ্রহণ করে কার্যত নির্বাচনী লড়াই থেকে সরে দাঁড়ান। এই অভিযোগ সেই সময় বিজেপির কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ সৃষ্টি করেছিল, যার প্রভাব পড়েছিল ভোটের ফলাফলেও।
স্থানীয় বিজেপি কর্মীদের একাংশের দাবি, বারাসত কেন্দ্রে এবার জয়ের সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকলেও একই প্রার্থীকে ফের মনোনয়ন দেওয়ায় সেই সম্ভাবনা নষ্ট হতে পারে। তাই দ্রুত প্রার্থী বদলের দাবিতে বারাসত বিজেপি কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভে সামিল হন বহু কর্মী-সমর্থক। পুরো ঘটনাকে ঘিরে স্পষ্ট হয়ে উঠছে দলের অন্দরের গোষ্ঠী কোন্দল, যা রাজনৈতিক মহলে বড় প্রশ্ন তুলেছে—অভ্যন্তরীণ ঐক্য যেখানে প্রশ্নের মুখে, সেখানে রাজ্য শাসনের স্বপ্ন কতটা বাস্তবসম্মত?



















