দিল্লি – চেক বাউন্স হওয়া থেকে কোনো ব্যক্তির ‘অসৎ উদ্দেশ্য’ বা প্রতারণার ইচ্ছা অনুমান করা যাবে না। প্রতারণার অভিযোগ প্রমাণ করার জন্য দেখাতে হবে, লেনদেনের শুরুতেই অভিযুক্তের প্রতারণার উদ্দেশ্য ছিল।
বিচারপতি পামিডিঘান্তম শ্রী নরসিমহা এবং বিচারপতি মনোজ মিশ্রের বেঞ্চ এই রায় দিয়েছেন। এর আগে মাদ্রাজ হাইকোর্ট চেক বাউন্সের ঘটনার ওপর ভিত্তি করে প্রতারণার মামলা চালানোর অনুমতি দিয়েছিল, যা সুপ্রিম কোর্ট বাতিল করেছে।
ঘটনার সূত্র চলচ্চিত্র প্রযোজনার আর্থিক লেনদেন। অভিযোগ অনুযায়ী, এক ব্যক্তি সিনেমা তৈরি ও লাভের অংশ দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে প্রথমে ৩০ শতাংশ, পরে আরও বেশি টাকা গ্রহণ করেন। সিনেমা প্রত্যাশিত লাভ করতে না পারায়, অভিযুক্ত দুটি পোস্ট-ডেটেড চেক দেন, যেগুলি পরে বাউন্স করে।
হাইকোর্ট মূলত ৪২০ ধারার মামলা চালু রাখার নির্দেশ দিয়েছিল। তবে সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, প্রতারণার অপরাধ গঠনের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল—প্রতিশ্রুতি দেওয়ার সময় অভিযুক্তের অসৎ উদ্দেশ্য ছিল কি না। পরে চেক বাউন্স হওয়া বা চুক্তি ভঙ্গ হওয়া প্রতারণার প্রমাণ হয় না।
আদালত উল্লেখ করেছে, সিনেমা তৈরি একটি ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবসা এবং সফল হবে কি হবে না তা আগে থেকে বলা যায় না। পোস্ট-ডেটেড চেক সাধারণত ভবিষ্যতের দায় মেটানোর জন্য দেওয়া হয়, তাই চেক বাউন্স হওয়া থেকে সরাসরি প্রতারণা প্রমাণ করা যায় না।
শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, চেক বাউন্স সংক্রান্ত আইনি পদক্ষেপ নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস আইনের ১৩৮ ধারায় নেওয়া যেতে পারে, তবে তা ফৌজদারি প্রতারণার মামলা তৈরি করে না। মূলত এটি একটি বাণিজ্যিক লেনদেনের ব্যর্থতা, দেওয়ানি বিষয়, তাই ৪২০ ধারার মামলা খারিজ করা হলো।



















