রাজ্য – সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ সত্ত্বেও পঞ্চম বেতন কমিশনের বকেয়া ডিএ এখনও কার্যকর হয়নি। সেই প্রেক্ষাপটে এবার ষষ্ঠ বেতন কমিশনকে কেন্দ্র করে নতুন করে আইনি লড়াই শুরু হয়েছে কলকাতা হাইকোর্টে। বিচারপতি মধুরেশ প্রসাদের ডিভিশন বেঞ্চে ‘ইউনিটি ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন মামলা দায়ের করেছে। মামলায় দাবি তোলা হয়েছে, ষষ্ঠ বেতন কমিশনের প্রথম কিস্তির ডিএ অল ইন্ডিয়া প্রাইস ইনডেক্স (AICPI) অনুযায়ী নির্ধারণ করা হোক।
আবেদনকারীরা জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের তুলনায় রাজ্যের কর্মীরা এখনও প্রায় ৪০ শতাংশ কম ডিএ পাচ্ছেন। এই বৈষম্য দূর করতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন তারা। প্রসঙ্গত, পঞ্চম বেতন কমিশনের বকেয়া ডিএ সংক্রান্ত মামলায় সুপ্রিম কোর্ট আগে জানিয়েছিল, ভবিষ্যতে ডিএ নির্ধারণ করতে হবে অল ইন্ডিয়া প্রাইস ইনডেক্স অনুযায়ী। কিন্তু সেই নির্দেশ বাস্তবায়িত হয়নি। এই পরিস্থিতিতে নতুন করে ষষ্ঠ বেতন কমিশনের ক্ষেত্রেও একই নীতি কার্যকর করার দাবিতে হাইকোর্টে মামলা দায়ের করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, আগামী ৬ এপ্রিল এই মামলার প্রথম শুনানি হতে পারে।
এদিকে ডিএ নিয়ে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনের মাঝেই রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের উদ্দেশে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। বিধানসভা নির্বাচনের ইস্তাহারে শুধু বকেয়া ডিএ মেটানোর প্রতিশ্রুতিই নয়, সপ্তম পে কমিশন চালুর ঘোষণা এবং সামগ্রিক বেতন কাঠামো পুনর্বিন্যাসের ইঙ্গিত দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্বাচনের আগে রাজ্যে প্রচারে এসে তিনি সপ্তম বেতন কমিশন চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
তৃণমূলের নির্বাচনী ইস্তাহারে বলা হয়েছে, রোপা ২০০৯ অনুযায়ী বকেয়া ডিএ ধাপে ধাপে মেটানো হবে। তবে কেন্দ্রীয় হারে ডিএ দেওয়ার কথা কোথাও উল্লেখ করা হয়নি। সরকার তাদের আর্থিক সীমাবদ্ধতার মধ্যে থেকে এই সমস্যা মেটাতে চাইছে। তৃণমূলের দাবি, কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে রাজ্যের বিপুল পরিমাণ বকেয়া আটকে রয়েছে, যার কারণে এককালীন বড় অঙ্কের ডিএ দেওয়া সম্ভব হয়নি।
শুধু ডিএ নয়, ইস্তাহারে আরও বড় ঘোষণা হল সপ্তম পে কমিশন চালুর প্রতিশ্রুতি। নতুন পে কমিশন গঠন করে সরকারি কর্মচারী, শিক্ষক, পেনশনভোগী এবং অনুদানপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের বেতন কাঠামোয় সামঞ্জস্য আনা হবে। অর্থাৎ, ডিএ-র বাইরে গিয়েও সম্পূর্ণ বেতন কাঠামো পুনর্বিন্যাসের দিকে নজর দিচ্ছে সরকার।



















