দেশ – পশ্চিম এশিয়ার ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার আবহে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট তীব্রতর হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে রবিবার উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে দেশের জ্বালানি ও প্রয়োজনীয় পরিষেবার সামগ্রিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বৈঠকে অপরিশোধিত তেল, গ্যাস, পেট্রোলিয়াম পণ্য, বিদ্যুৎ এবং সার সরবরাহের বিষয়গুলি বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা হয়। মূল লক্ষ্য ছিল দেশের সর্বত্র নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ বজায় রাখা এবং সাধারণ মানুষের কাছে পর্যাপ্ত জ্বালানি পৌঁছে দেওয়া।
এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর, অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন-সহ একাধিক শীর্ষ মন্ত্রী। পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ আধিকারিকরাও উপস্থিত ছিলেন।
সূত্রের খবর, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের জেরে তৈরি হওয়া জ্বালানি সঙ্কট মোকাবিলায় কেন্দ্র সরকার ইতিমধ্যেই সক্রিয় পদক্ষেপ নিচ্ছে। যাতে পেট্রোলিয়াম পণ্য-সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর সরবরাহে কোনও ব্যাঘাত না ঘটে, তা নিশ্চিত করার দিকেই জোর দেওয়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত ১২ মার্চ প্রধানমন্ত্রী মোদী জানিয়েছিলেন, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ধৈর্য, শান্তি এবং জনসচেতনতার প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি তুলে ধরেন। সরকার এই সংকট কাটিয়ে উঠতে ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
প্রসঙ্গত, ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল-এর ইরানের উপর হামলার পর থেকেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পাল্টা জবাবে ইরান ইজরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলের একাধিক দেশে আঘাত হানে। এই প্রেক্ষাপটে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, কাতার-সহ একাধিক দেশের রাষ্ট্রনেতাদের সঙ্গে ইতিমধ্যেই টেলিফোনে কথা বলেছেন মোদী।
এদিকে, হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রণালী উন্মুক্ত না করলে কঠোর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দেন। যদিও তেহরান জানিয়ে দিয়েছে, প্রণালী পুরোপুরি বন্ধ নয়—বিদেশি জাহাজ চলাচল করতে পারবে, তবে নির্দিষ্ট শর্তে।
আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা International Maritime Organization-র কাছে ইরানের প্রতিনিধি আলি মুসাভি জানিয়েছেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জাহাজগুলিকে তেহরানের সঙ্গে সমন্বয় রাখতে হবে। তাঁর বক্তব্য, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে আন্তর্জাতিক নিয়মের পাশাপাশি ইরানের আঞ্চলিক অধিকারের প্রতিও সম্মান দেখানো জরুরি।
ইরান আরও জানিয়েছে, এই অঞ্চলে নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সামুদ্রিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তারা আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলির সঙ্গে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজার ও সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর এই সংঘাতের প্রভাব এখন গভীরভাবে নজরে রাখছে ভারত-সহ একাধিক দেশ।




















