ভবানীপুরে রেকর্ড জয়ের ডাক, আক্রমণাত্মক সুরে অভিষেক

ভবানীপুরে রেকর্ড জয়ের ডাক, আক্রমণাত্মক সুরে অভিষেক

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


রাজ্য – আসন্ন নির্বাচনের রণকৌশল নির্ধারণে ফের আক্রমণাত্মক মেজাজে ধরা দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার ভবানীপুর কেন্দ্রে দলীয় কর্মীসভা থেকে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, লক্ষ্য শুধু জয় নয়—রেকর্ড ব্যবধানে জয়। গত নির্বাচনে ২৩১টি বুথে যে লিড ছিল, তা ছাপিয়ে এবার অন্তত ৬০,০০০-এর বেশি ব্যবধানে জয়ের লক্ষ্য বেঁধে দেন তিনি। কর্মীদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, আত্মতুষ্টির কোনও জায়গা নেই; প্রতিটি বুথে অন্তত পাঁচটি করে অতিরিক্ত ভোট বাড়ানোর দায়িত্ব নিতে হবে।
বিরোধীদের কড়া ভাষায় আক্রমণ করে অভিষেক বলেন, যাঁদের এতদিন মানুষের বিপদে খুঁজে পাওয়া যায়নি, তাঁরা এখন ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করছেন। এই “ভাঁওতাবাজি” মানুষের সামনে তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি। একইসঙ্গে কেন্দ্রীয় প্রকল্প ও রাজ্যের প্রকল্পের তুলনা টেনে তিনি দাবি করেন, আয়ুষ্মান ভারত-এর তুলনায় স্বাস্থ্যসাথী-তে কোনও বৈষম্যমূলক শর্ত নেই। পাশাপাশি লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের উল্লেখ করে বলেন, এই ধরনের উদ্যোগ বিজেপি শাসিত কোনও রাজ্যে নেই এবং তৃণমূল সরকার থাকলে এই প্রকল্প চলবে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর জীবনযাত্রার তুলনা টেনে তিনি বলেন, একদিকে বিলাসবহুল জীবনযাপন, অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আজও সাধারণ মানুষের মতো জীবন কাটান। দলের ঘোষিত ‘১০টি শপথ’ ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে তিনি জানান, বাংলা কখনও দিল্লির কাছে মাথা নত করবে না। তাঁর কথায়, এই লড়াই এখন সম্মানের লড়াই, এবং রিপোর্ট কার্ড নিয়ে মানুষের কাছে পৌঁছনোই প্রধান লক্ষ্য।
ভোটার তালিকার সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট প্রকাশের আগে সম্ভাব্য সমস্যার কথাও তুলে ধরেন অভিষেক। তাঁর আশঙ্কা, বহু মানুষের নাম বাদ পড়তে পারে। তিনি আশ্বাস দেন, যাঁরা সমস্যায় পড়বেন তাঁদের পাশে দল থাকবে এবং প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা দেওয়া হবে।
কেন্দ্রীয় বঞ্চনার অভিযোগ তুলে তিনি আবারও বলেন, এতদিন যাঁদের খুঁজে পাওয়া যায়নি, তাঁরা এখন ধর্মের রাজনীতি করছে। কটাক্ষের সুরে তাঁর মন্তব্য, সাধারণ মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় পরিষেবা দিতে ব্যর্থ হলেও ভোটের সময় প্রলোভন দেখানো হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন অভিষেক। তাঁর অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে প্রশাসনিক স্তরে একাধিক বদল ঘটানো হয়েছে, যার ফলে পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে কর্মীদের তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন, কোনও প্ররোচনায় পা না দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। তাঁর কথায়, বাইরে থেকে অশান্তি তৈরির চেষ্টা হতে পারে, কিন্তু তৃণমূল শান্তি বজায় রেখেই ভোটে জয় চায়।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top