কলকাতা – লিফট বিপর্যয়ের জেরে এক মৃত্যুর ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের শিরোনামে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল। এবার চিকিৎসা করাতে এসে এক বৃদ্ধের মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃতের পরিবারের অভিযোগ, হাসপাতালের চূড়ান্ত অব্যবস্থার কারণেই এই মর্মান্তিক পরিণতি। ঘটনাটি সোমবার ভোরের।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, শ্বাসকষ্ট ও হৃদরোগজনিত সমস্যায় রবিবার গভীর রাতে নিমতার বাসিন্দা বিশ্বজিৎ সামন্ত (৬০)-কে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। জরুরি বিভাগের ট্রমা কেয়ারে তাঁর চিকিৎসা শুরু হয়। অভিযোগ, চিকিৎসার পর সামান্য শারীরিক উন্নতি হলে তিনি শৌচালয়ে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট বিল্ডিংয়ে শৌচালয়ের ব্যবস্থা না থাকায় তাঁকে বাইরে যেতে বলা হয়, যা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে পরিবার।
পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে যখন অভিযোগ ওঠে, অসুস্থ রোগীকে নিয়ে যাওয়ার জন্য কোনও স্ট্রেচারও মেলেনি। বাধ্য হয়ে হাঁটতে হাঁটতেই কিছুটা যাওয়ার পর অসুস্থ হয়ে পড়েন বিশ্বজিৎবাবু। এরপর হঠাৎই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। দ্রুত তাঁকে ফের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
মৃতের স্ত্রীর দাবি, হাসপাতালের গাফিলতি ও অব্যবস্থাই তাঁর স্বামীর মৃত্যুর মূল কারণ। ইতিমধ্যেই পুরো ঘটনা জানিয়ে টালা থানা-য় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে এবং ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগেই গত শুক্রবার একই হাসপাতালে ভয়াবহ লিফট বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনায় দমদমের বাসিন্দা অরূপ ব্যানার্জির মৃত্যু হয়। স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে হাসপাতালে আসার পর ট্রমা কেয়ারের লিফটে প্রায় এক ঘণ্টা আটকে পড়েন তাঁরা। সেখানেই পরিবারের সামনেই মৃত্যু হয় অরূপবাবুর। প্রাথমিক ময়নাতদন্তে দেহের অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের কথা জানা যায়। ওই ঘটনায় তিনজন লিফটম্যান-সহ মোট পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তাঁরা বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন।




















