রাজ্য – নির্বাচনের আগে প্রশাসনিক স্তরে বড়সড় রদবদল করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। কর্মীবর্গ ও প্রশাসনিক সংস্কার দপ্তরের জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ১০ জন আইএএস আধিকারিককে অবিলম্বে বদলি করে নতুন দায়িত্বে নিয়োগ করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মেনেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।
শুক্রবার (২৭ মার্চ ২০২৬) জারি হওয়া বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের ২৭ মার্চ বিকেল ৫টার মধ্যে নির্দিষ্ট বিধানসভা কেন্দ্রে রিপোর্ট করতে হবে এবং পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত সেখানেই দায়িত্ব পালন করতে হবে। নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখতেই এই পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।
বদলি হওয়া আধিকারিকদের মধ্যে রয়েছেন মঈন আহমেদ, যিনি আগে ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প ও বস্ত্র দপ্তরের ওএসডি ছিলেন। তাঁকে জলপাইগুড়ির সদর এসডিও হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে এবং তিনি জলপাইগুড়ি (এসসি) বিধানসভা কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকবেন।
রবি কুমার মীনা, যিনি উচ্চশিক্ষা দপ্তরের ওএসডি ছিলেন, তাঁকে দক্ষিণ ২৪ পরগনার আলিপুর সদর সাব–ডিভিশনাল অফিসার করা হয়েছে এবং তিনি যাদবপুর বিধানসভা কেন্দ্রের দায়িত্ব পালন করবেন।
রবি রঞ্জনকে হাওড়ার এডিএম–১ হিসেবে, প্রিয়দর্শিনী এস-কে হুগলির এডিএম–৩ হিসেবে, এবং একম জে সিংকে পশ্চিম মেদিনীপুরের এডিএম (এলআর) হিসেবে বদলি করা হয়েছে। তাঁদের নির্দিষ্ট বিধানসভা কেন্দ্রগুলিতে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, সুরভি সিংলা (হলদিয়া), ধুমাল প্রতীক অশোক (কাঁথি), এবং কর্মবীর কেশব (এগরা) আগের পদেই থেকে নিজ নিজ বিধানসভা কেন্দ্রের দায়িত্ব পালন করবেন।
এছাড়া একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদেও বদলি হয়েছে। যেমন, একম জে সিংকে খড়গপুর বিধানসভা কেন্দ্র, মহম্মদ আবদুল শহিদকে দাসপুর বিধানসভা কেন্দ্র এবং প্রিয়দর্শিনী ভট্টাচার্যকে সোনামুখী বিধানসভা কেন্দ্রের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে বাঁকুড়া জেলায় পিডি, ডিআরডিসি পদে নিয়োগ পেয়েছেন আইএএস টেনজিন সেমকিয়ি ওগেন। পাশাপাশি তাঁকে রায়পুর বিধানসভা কেন্দ্রের রিটার্নিং অফিসার হিসেবেও দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া রবি কুমারকে আরামবাগ মহকুমার এসডিও ও আরামবাগ বিধানসভা কেন্দ্রের রিটার্নিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনিক মহলের মতে, নির্বাচন পরিচালনায় নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে এবং সুষ্ঠু ভোট নিশ্চিত করতে এই ধরনের বদলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মেনেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে স্পষ্ট করেছে প্রশাসন।




















