রাজ্য – রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে সংখ্যালঘু ভোটের সমীকরণ। বিশেষ করে এবারের নির্বাচনে সংখ্যালঘুদের একাংশ কি বিজেপির দিকে ঝুঁকেছিল, তা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। সেই বিতর্কের মাঝেই মুখ খুললেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি Samik Bhattacharya। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, বিজেপির রাজনীতি কোনও ধর্মের বিরুদ্ধে নয় এবং উন্নয়নের ক্ষেত্রে হিন্দু-মুসলমান ভেদাভেদ করা হবে না।
একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শমীক ভট্টাচার্য বলেন, এবারের নির্বাচন শুধু হিন্দু বাঙালিদের জন্য নয়, প্রগতিশীল ও শিক্ষিত মুসলিম সমাজের কাছেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তাঁর মতে, দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যে এমন একটি রাজনৈতিক ধারণা তৈরি হয়েছিল যে শুধুমাত্র মুসলিম ভোটের উপর নির্ভর করেই ক্ষমতায় ফেরা সম্ভব। সেই ধারণা ভাঙতেই চেয়েছিল বিজেপি।
সংখ্যালঘু ভোট বিজেপি পেয়েছে কি না, সেই প্রশ্নে সরাসরি উত্তর না দিলেও শমীক বলেন, “একটাও সংখ্যালঘু ভোট বিজেপি পায়নি, এটা আমি বিশ্বাস করি না। সংখ্যালঘুদের একাংশও আমাদের সমর্থন করেছেন।”
তিনি আরও দাবি করেন, বিজেপির লড়াই কোনও ধর্মের বিরুদ্ধে নয়। তাঁর কথায়, “আমাদের লড়াই জেহাদি মানসিকতা এবং মৌলবাদের বিরুদ্ধে।” সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উদ্দেশে তিনি বার্তা দেন, বিজেপিকে শত্রু হিসেবে দেখার কোনও কারণ নেই এবং তাদের রাজনীতি প্রতিহিংসার রাজনীতি নয়।
একইসঙ্গে হিন্দুদের একাংশকেও সতর্কবার্তা দিয়েছেন বিজেপি সভাপতি। তিনি বলেন, কেউ যদি উগ্রতার রাজনীতি করতে চান বা ত্রিশূল নিয়ে রাস্তায় নেমে সরকারকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেন, তাও বরদাস্ত করা হবে না। নতুন সরকার কোনও ধরনের চরমপন্থাকেই প্রশ্রয় দেবে না বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।
উন্নয়নের ক্ষেত্রে ধর্মীয় বিভাজনের প্রশ্নও উড়িয়ে দিয়েছেন শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর বক্তব্য, সরকার মানুষের ধর্ম নয়, নাগরিক পরিচয় দেখেই কাজ করবে। কোনও হিন্দুর জন্য আলাদা বা কোনও মুসলমানের জন্য আলাদা নীতি নেওয়া হবে না বলেও দাবি করেন তিনি।
উল্লেখযোগ্যভাবে, এবারের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি কোনও সংখ্যালঘু প্রার্থী দেয়নি। ফলে নতুন মন্ত্রিসভাতেও কোনও সংখ্যালঘু প্রতিনিধি নেই। তবে সেই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে নারাজ বিজেপির রাজ্য সভাপতি। তাঁর দাবি, সংখ্যালঘু না হয়েও সংখ্যালঘুদের উন্নয়নের জন্য কাজ করা সম্ভব।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের পর সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক নিয়ে যে নতুন সমীকরণের আলোচনা শুরু হয়েছে, শমীক ভট্টাচার্যের এই মন্তব্য সেই বিতর্ককে আরও উসকে দিল।




















