রাজ্য – বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। এই আবহে জোরদার প্রচারে নেমে পড়েছে সব রাজনৈতিক দল। এর মধ্যেই তৃণমূল কংগ্রেস পূর্ণাঙ্গ প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে বিরোধীদের চাপে ফেলেছে বলে রাজনৈতিক মহলের মত। অন্যদিকে, বিভিন্ন দল তাদের প্রার্থীদের নিয়ে এলাকায় এলাকায় প্রচারে ব্যস্ত।
শনিবার রঘুনাথপুর-এর জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভোটে সম্ভাব্য ‘ষড়যন্ত্র’ রুখতে বিশেষভাবে মহিলাদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তাঁর অভিযোগ, ভোটের সময় বিরোধীরা নানা কৌশলে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করতে পারে, তাই সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকতে হবে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যে উঠে আসে, “ভোটের সময় বিজেপি হয়ে গিয়েছে ওরা। পুলিশের পোশাক পরে যদি সেন্ট্রাল ফোর্স ছাপ্পা দিতে আসে, তাহলে রুখে দাঁড়াবেন।” তিনি আরও বলেন, বাইরের দুষ্কৃতীরা এলাকায় ঢুকছে কিনা, তা ভোটের আগের দিন থেকেই নজরে রাখতে হবে এবং প্রয়োজনে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
এছাড়াও তিনি মহিলাদের উদ্দেশে বলেন, ভোটের দিন এবং গণনার দিন পর্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে। তাঁর বক্তব্যে প্রতীকী ভাষায় উঠে আসে, প্রয়োজনে ঘরের জিনিসপত্র নিয়েও প্রস্তুত থাকার বার্তা। এই মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে জোর বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগে নকশালবাড়ি-র সভা থেকে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে নিয়ে মন্তব্যের জেরে নির্বাচন কমিশন রিপোর্ট তলব করেছিল। সেই প্রেক্ষাপটেই এবার রঘুনাথপুরের সভায় তাঁর এই মন্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়িয়েছে।
এদিনের সভা থেকে বিজেপির বিরুদ্ধেও তীব্র আক্রমণ শানান তৃণমূল সুপ্রিমো। তিনি অভিযোগ করেন, বিভাজনের রাজনীতি করে রাজ্যকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে বিরোধীরা। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, বাংলাকে রক্ষা করতে হলে তৃণমূলকেই সমর্থন করতে হবে এবং ভোটের ক্ষেত্রে কোনও প্রলোভনে পা দেওয়া যাবে না।
ভোট যত এগিয়ে আসছে, ততই রাজনৈতিক বক্তব্যের তীব্রতা বাড়ছে। রঘুনাথপুরের এই সভা সেই উত্তাপকে আরও বাড়িয়ে দিল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।



















