রাজ্য – শুক্রবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Amit Shah কলকাতায় এসে বিজেপির ইস্তেহার প্রকাশের পাশাপাশি গ্রামবাংলায় সভা করেন। তাঁর দেওয়া একাধিক প্রতিশ্রুতিকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর তরজা শুরু হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক Abhishek Banerjee যেমন পরিসংখ্যান তুলে ধরে পাল্টা আক্রমণ করেছেন, তেমনই একই সুরে বিজেপি নেতৃত্বকে নিশানা করেছেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক Mohammad Salim।
সাংবাদিক বৈঠক করে মহম্মদ সেলিম বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে বলেন, বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতেই অপরাধের হার বেশি এবং বিশেষ করে নারীদের বিরুদ্ধে অপরাধের ঘটনা বেশি ঘটছে। এনসিআরবি-র রিপোর্টের উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, Narendra Modi সরকারের আমলেই এই প্রবণতা বেড়েছে। সেই প্রেক্ষিতেই বাংলায় এসে আইনের শাসনের প্রতিশ্রুতি দেওয়াকে তিনি প্রশ্নবিদ্ধ করেন।
এদিন হুমায়ুন কবীরের স্টিং ভিডিও নিয়েও সরব হন সেলিম। তাঁর বক্তব্য, ‘বুলডোজার ন্যায়ের নামে বিজেপি বিভিন্ন রাজ্যে আইন ভাঙছে। সেই দল কীভাবে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করবে?’ পাশাপাশি তিনি Narendra Modi এবং Amit Shah-র বিরুদ্ধে তোপ দেগে বলেন, অতীতের একাধিক বিতর্কিত ঘটনার প্রেক্ষিতে তাঁদের বক্তব্য বিশ্বাসযোগ্য নয়। হুমায়ুন কবীরের ভিডিও কে তৈরি করেছে এবং এত টাকা কোথা থেকে এল—এই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
মহারাষ্ট্র ও গুজরাটে বিজেপি নেতাদের জমি কেলেঙ্কারি বছরের পর বছর ঝুলে রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন সিপিএম নেতা। নারী সুরক্ষার প্রসঙ্গে তিনি বিলকিস বানো, হাতরাস এবং উন্নাওয়ের মতো ঘটনাগুলির উল্লেখ করে বিজেপির বক্তব্যকে কটাক্ষ করেন। তাঁর দাবি, বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে বিজেপির প্রচারের বিস্তর ফারাক রয়েছে।
এছাড়াও এসআইআর এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকাকে নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মহম্মদ সেলিম। তাঁর অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বহু মানুষকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ভোটাধিকার একটি সাংবিধানিক অধিকার এবং তা রক্ষা করা জরুরি। একইসঙ্গে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি নিয়েও কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বিভাজনের রাজনীতি করার অভিযোগ তোলেন তিনি।
সমগ্র ঘটনায় রাজ্যের রাজনৈতিক তরজা আরও তীব্র হয়েছে। একদিকে বিজেপির প্রতিশ্রুতি, অন্যদিকে তৃণমূল ও বাম নেতৃত্বের পাল্টা আক্রমণে নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক সংঘাত যে আরও বাড়বে, তা স্পষ্ট।


















