উত্তর ২৪ পরগনা – উত্তর ২৪ পরগনার হাড়োয়া থানার অন্তর্গত আটপুকুরের উচিলদহ গ্রামে এক গৃহবধূর অস্বাভাবিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মৃতার পরিবারের অভিযোগ, রাজনৈতিক বিরোধের জেরেই তাঁদের মেয়েকে নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে, যদিও ঘটনাকে ঘিরে উঠেছে পাল্টা দাবি।
মৃত গৃহবধূ অদিপ্তা দাসের বাবা, স্থানীয় বিজেপি কর্মী দীপক দাস দাবি করেছেন, ২০২১ সালে একই এলাকার বাসিন্দা রাহুল দাস তাঁর মেয়েকে জোর করে বিয়ে করেন। তাঁর অভিযোগ, রাহুলের পরিবার শাসকদল ঘনিষ্ঠ হওয়ায় বিয়ের পর থেকেই অদিপ্তার উপর লাগাতার মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালানো হত। পরিবারের বক্তব্য, তাঁদের রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণেই বারবার হুমকি দেওয়া হত এবং পরিকল্পিতভাবে টার্গেট করা হয়েছিল।
পরিবারের আরও অভিযোগ, শনিবার অদিপ্তাকে মারধর করে খুন করার পর ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে দেখানোর চেষ্টা করা হয়। তাঁদের দাবি, প্রথমে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে পরে দেহটি গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং পরিস্থিতি দ্রুত অশান্ত হয়ে ওঠে।
খবর পেয়ে হাড়োয়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহ উদ্ধার করে। দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য বসিরহাট জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে।
অন্যদিকে, স্থানীয় তৃণমূল কর্মী দীনেশ দাস সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছেন, রাহুল ও অদিপ্তা নিজেদের ইচ্ছায় প্রেম করে বিয়ে করেছিলেন এবং সেই বিয়ে মেয়ের পরিবার মেনে নেয়নি। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিবাদের জেরেই এই ঘটনা ঘটেছে এবং আত্মহত্যার ঘটনাকে রাজনৈতিক রং দিয়ে তৃণমূলকে দোষারোপ করার চেষ্টা চলছে।
ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। প্রশাসনের মতে, তদন্তের রিপোর্ট সামনে এলে তবেই প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে।



















