দিল্লী – ভোটের আগে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর বহু মানুষের নাম বাদ পড়া নিয়ে সরগরম পশ্চিমবঙ্গ। যাঁরা ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে নিজেদের নাম ‘ক্লিয়ার’ করিয়েছেন, তাঁরা আদৌ ভোট দিতে পারবেন কি না—এই প্রশ্ন ঘিরেই জোর চর্চা শুরু হয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েই আজ শুনানি হতে চলেছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত Supreme Court of India-এ, যার দিকে তাকিয়ে রয়েছে গোটা রাজ্য।
নির্বাচনের আগে নির্দিষ্ট সময়ের পর ভোটার তালিকা ‘ফ্রিজ়’ করে দেওয়া হয়, যার পরে আর নতুন করে নাম তোলা বা সংশোধনের সুযোগ থাকে না। কিন্তু এ বার অভিযোগ উঠেছে, তালিকা থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষের নাম বাদ পড়েছে। ফলে বহু মানুষ অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনালের দ্বারস্থ হয়েছেন। সূত্রের খবর, এই আবেদনকারীদের মধ্যে বেশ কয়েকজন ইতিমধ্যেই ট্রাইব্যুনাল থেকে ‘ক্লিয়ার’ হয়েছেন। এখন মূল প্রশ্ন, তালিকা ফ্রিজ় হয়ে যাওয়ার পরও তাঁদের ভোটাধিকার কার্যকর করা যাবে কি না।
গত শুক্রবার মামলাটি ওঠার সময় বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী জানান, এই ‘ফ্রিজ়িং’ সংক্রান্ত বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত-এর বেঞ্চ প্রয়োজন হলে উপযুক্ত পদক্ষেপ নিতেও পারে বলে ইঙ্গিত দেয়। এই মন্তব্যের পরই আশাবাদী হয়ে উঠেছেন প্রায় ২৭ লক্ষ ভোটার, যাঁদের নাম এখনও অ্যাজুডিকেশন তালিকায় রয়েছে।
আইনজীবীদের একাংশের মতে, ট্রাইব্যুনালে ‘ক্লিয়ার’ হওয়ার পর যদি সুপ্রিম কোর্ট বিশেষ সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে এই ভোটারদের ভোটাধিকার নিশ্চিত হতে পারে। এমন হলে তা একটি দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হবে।
আজকের শুনানিতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে আসতে পারে। প্রথমত, অ্যাজুডিকেশন তালিকায় থাকা ভোটারদের আবেদন খতিয়ে দেখতে ট্রাইব্যুনালগুলি সক্রিয়ভাবে কাজ শুরু করেছে কি না, সেই বিষয়টি আদালত জানতে চাইতে পারে। দ্বিতীয়ত, মালদা-র মোথাবাড়িতে বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের আটকে রাখার ঘটনায় ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি-র তদন্তের অগ্রগতি নিয়েও রিপোর্ট জমা পড়তে পারে। তৃতীয়ত, বাংলার ১৩ জন বৈধ পাসপোর্টধারী ভোটার, যাঁদের নাম চূড়ান্ত তালিকায় নেই, তাঁদের বিষয়টিও আদালতে উঠতে পারে।
সব মিলিয়ে, আজকের শুনানি শুধু আইনি দৃষ্টিকোণ থেকেই নয়, রাজনৈতিক এবং গণতান্ত্রিক দিক থেকেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে। এখন দেখার, সুপ্রিম কোর্ট কী নির্দেশ দেয় এবং তা ভোটের প্রক্রিয়ায় কতটা প্রভাব ফেলে।




















