রাজ্য – বিধানসভা নির্বাচনের মরশুমে সরগরম পশ্চিমবঙ্গ। নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিতে কেন্দ্রীয় নেতা-মন্ত্রী থেকে শুরু করে বিজেপি শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরাও আসছেন বাংলায়। তবে তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, বাংলার সংস্কৃতি ও ইতিহাস সম্পর্কে এই ‘বহিরাগত’ নেতাদের সঠিক ধারণা নেই। আর সেই অভিযোগই নতুন করে উস্কে দিলেন যোগী আদিত্যনাথ-এর একটি মন্তব্য।
সম্প্রতি বাংলায় জনসভা করতে এসে বিষ্ণুপুরের নাম ভুল উচ্চারণ করে ‘বিসুনপুর’ বলেছিলেন যোগী আদিত্যনাথ। সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করে কড়া সমালোচনা করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। তাদের দাবি, এটি শুধু একটি ভুল নয়, বরং বাংলার প্রতি অসম্মান। একইসঙ্গে তৃণমূলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বাংলার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য নিয়ে মন্তব্য করার আগে সঠিক জ্ঞান থাকা প্রয়োজন।
এর আগেও বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন বাংলায় এসে আলিপুরদুয়ার জেলার নাম উচ্চারণ করতে গিয়ে বিভ্রান্তিতে পড়েন। ‘আলিপুর’ না ‘দুয়ার’—এই নিয়ে তাঁর ভুল মন্তব্য ঘিরেও বিতর্ক তৈরি হয়। ফলে ধারাবাহিকভাবে বিজেপি নেতাদের এই ধরনের ভুল উচ্চারণ এখন রাজনৈতিক তরজার কেন্দ্রে।
শুধু তাই নয়, বাংলার মনীষীদের নিয়েও বিজেপি নেতাদের মন্তব্যকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তৃণমূলের দাবি, অতীতে প্রধানমন্ত্রী সংসদে ‘বঙ্কিম দা’ বলে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়-কে উল্লেখ করেছিলেন, যা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। পাশাপাশি স্বামী বিবেকানন্দ-কে উদ্ধৃত করা নিয়েও কটাক্ষ করা হয়েছে, কারণ বিজেপিরই এক নেতা তাঁকে আগে অপমানজনক মন্তব্য করেছিলেন বলে দাবি তৃণমূলের।
অন্যদিকে যোগী আদিত্যনাথ বাংলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে উত্তরপ্রদেশকে তুলনায় এগিয়ে বলে দাবি করেন। এর পাল্টা তৃণমূল কংগ্রেস জানায়, ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরো-র তথ্য অনুযায়ী উত্তরপ্রদেশই দেশের অন্যতম অসুরক্ষিত রাজ্য। সেই প্রেক্ষিতে বাংলাকে আইনশৃঙ্খলা নিয়ে ‘শিক্ষা’ দেওয়ার সমালোচনা করেছে তারা।
সব মিলিয়ে, নির্বাচনের আগে ভাষা, সংস্কৃতি ও আইনশৃঙ্খলা ইস্যুতে বিজেপি ও তৃণমূলের মধ্যে রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। ভোট যত এগিয়ে আসছে, ততই এই ধরনের মন্তব্য ও পাল্টা মন্তব্যে উত্তপ্ত হচ্ছে বাংলার রাজনৈতিক ময়দান।




















