রাজ্য – বিধানসভা নির্বাচনের আবহে পুরুলিয়ায় এক অদ্ভুত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ভোট ডিউটির প্রশিক্ষণে না যাওয়ার অভিযোগে একাধিক শিক্ষক-প্রার্থীকে শো-কজ নোটিস পাঠিয়েছে Election Commission of India। কিন্তু বিতর্ক তৈরি হয়েছে কারণ, এই তালিকায় এমন ব্যক্তির নামও রয়েছে যিনি ইতিমধ্যেই মারা গিয়েছেন, আবার কেউ বহুদিন আগে চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন। এমনকি প্রার্থীরাও এই তালিকা থেকে বাদ পড়েননি।
ঘটনা এখানেই থেমে থাকেনি। যাঁরা মৃত বা চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন, তাঁদের কাছ থেকে কোনও উত্তর পাওয়া সম্ভব না হলেও তাঁদের উদ্দেশে দ্বিতীয় দফার কারণ দর্শানোর চিঠিও পাঠানো হয়েছে। সেখানে লেখা হয়েছে, আগের চিঠির উত্তরে কমিশন সন্তুষ্ট নয়। স্বাভাবিকভাবেই এই ঘটনায় প্রশাসনিক বিভ্রান্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। জেলার সরকারি কর্মীদের একাংশ বলছেন, যিনি আর বেঁচে নেই, তিনি কীভাবে চিঠির উত্তর দেবেন? এই অদ্ভুত পরিস্থিতি ঘিরে এলাকায় হাসি-মস্করাও শুরু হয়েছে।
এই শো-কজ তালিকায় রয়েছেন একাধিক রাজনৈতিক দলের প্রার্থীও। তাঁদের মধ্যে আছেন রঘুনাথপুরের তৃণমূল প্রার্থী Hajari Bauri, পাড়ার বিজেপি প্রার্থী ও বিদায়ী বিধায়ক Nadiar Chand Bauri, বান্দোয়ানের বিজেপি প্রার্থী Lobsen Baske এবং কাশিপুরের কংগ্রেস প্রার্থী Subhas Chandra Mahato। তাঁরা প্রত্যেকেই পেশায় শিক্ষক হওয়ায় এই নোটিস তাঁদের কাছেও পৌঁছেছে।
এই ঘটনার পর চাপে পড়ে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট শো-কজ নোটিসগুলিকে উপেক্ষা করতে বলা হয়েছে। তবে অভিযোগ, সেই বার্তা সব প্রার্থীর কাছে পৌঁছায়নি। তৃণমূল প্রার্থী হাজারি বাউরি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তিনি আগেই জানিয়েছিলেন যে তিনি নির্বাচনী প্রার্থী এবং ছুটিতে রয়েছেন, তবুও এই ধরনের নোটিস পাঠানো হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, কমিশনের এই ধরনের পদক্ষেপ রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত।
অন্যদিকে, বিজেপি প্রার্থী লবসেন বাস্কেও বিস্ময় প্রকাশ করে জানান, তিনি নিজেই কমিশনের কাছে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন, অথচ তাঁকেই শো-কজ করা হয়েছে। ফলে প্রশাসনিক সমন্বয়ের অভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন মহলে।
প্রসঙ্গত, এই জেলায় মোট ৫৮২ জনকে শো-কজ করা হয়েছে ভোট ডিউটির প্রশিক্ষণে অনুপস্থিত থাকার জন্য। প্রথম দফার ভোটের আগে দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রশিক্ষণ শুরু হবে ১৬ এপ্রিল থেকে, যা চলবে ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত। নির্বাচন ঘনিয়ে আসতেই এই ধরনের প্রশাসনিক বিভ্রান্তি নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে।




















