রাজ্য – লোকসভায় আসন বৃদ্ধি ও মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর করার লক্ষ্যে আনা গুরুত্বপূর্ণ বিলে ধাক্কা খেল কেন্দ্র। দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন না পাওয়ায় ভোটাভুটিতে হেরে যায় এনডিএ সরকার। বিরোধী ঐক্যের সামনে আটকে যায় এই উদ্যোগ, যার ফলে রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
এই ফলাফলের পরই Abhishek Banerjee এক্স (সাবেক টুইটার)-এ কেন্দ্রকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন। তিনি লেখেন, “এনডিএ সরকারের সময় ফুরিয়ে আসছে তা স্পষ্ট। নিয়ন্ত্রণের ভ্রম চোখের সামনেই ভেঙে পড়ছে।” পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, লোকসভায় সীমানা পুনর্বিন্যাস বিলের পরাজয় বিজেপির অস্বস্তিকে প্রকাশ্যে এনে দিয়েছে।
অভিষেক আরও বলেন, নারীদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ নিশ্চিতকারী আইন ইতিমধ্যেই কার্যকর রয়েছে এবং ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরেই তা সর্বসম্মতিক্রমে পাশ হয়েছিল। কেন্দ্রকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে তিনি লেখেন, যদি সরকার সত্যিই আন্তরিক হয়, তবে অবিলম্বে এক-তৃতীয়াংশ সংরক্ষণ কার্যকর করার জন্য নতুন বিল আনতে হবে। তৃণমূল এই পদক্ষেপকে সমর্থন করবে বলেও জানান তিনি।
এই প্রসঙ্গে তিনি আরও দাবি করেন, সংবিধানের ১৩১তম সংশোধনী বিল দেশবাসী প্রত্যাখ্যান করেছে। লোকসভার আসন সংখ্যা ৮৫০-এ বাড়ানো এবং ২০১১ সালের জনগণনার ভিত্তিতে পুনর্বিন্যাসের প্রস্তাব ন্যায্যতা ও ভারসাম্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তাঁর মতে, এই সিদ্ধান্তই কেন্দ্রের বিরুদ্ধে জনমত তৈরি করছে।
দু’দিনের দীর্ঘ আলোচনার পর শুক্রবার ভোটাভুটিতে বিলের পক্ষে পড়ে ২৯৮টি ভোট এবং বিপক্ষে ২৩০টি ভোট। মোট ৫২৮ জন সাংসদ অংশ নেন। কিন্তু সংবিধান সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় ৩২৬টি ভোট না পাওয়ায় বিলটি পাশ হয়নি। এই ফলাফলের পর Rahul Gandhi ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে ফোনালাপও হয় বলে রাজনৈতিক সূত্রে জানা গিয়েছে।
প্রসঙ্গত, সংবিধানের ধারা ৮১ অনুযায়ী লোকসভার সর্বোচ্চ আসন সংখ্যা ৫৫২। আর ধারা ৮২ অনুযায়ী জনগণনার পরই সীমানা পুনর্বিন্যাস করা যায়। বিরোধী দলগুলির অভিযোগ, নতুন জনগণনা সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই ২০১১ সালের তথ্যের ভিত্তিতে আসন পুনর্বিন্যাসের চেষ্টা করছে কেন্দ্র, যা রাজনৈতিকভাবে পক্ষপাতদুষ্ট হতে পারে। সেই কারণেই এই বিলের বিরুদ্ধে একজোট হয় বিরোধীরা এবং শেষ পর্যন্ত তা আটকে দেয়।




















