রাজ্য – রাত পোহালেই রাজ্যে প্রথম দফার ভোট। নির্বাচনকে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ করতে শুরু থেকেই একাধিক কড়া পদক্ষেপ নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, ভোট প্রক্রিয়া নির্বিঘ্ন রাখতে নজরদারি আরও জোরদার করা হচ্ছে এবং সম্ভাব্য অশান্তি রুখতেই আগাম ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে কমিশনের একটি নির্দেশিকা ঘিরে। ওই বিজ্ঞপ্তিতে প্রায় ১৬ জন তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী এবং প্রায় ২৯৪ জন দলীয় ভোট ম্যানেজার ও নেতাকে ‘ট্রাবল মেকার’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। তাঁদের গতিবিধির উপর বিশেষ নজর রাখতে রাজ্য পুলিশের ডিজিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি তাঁদের কার্যকলাপ খতিয়ে দেখা এবং প্রয়োজনে আগাম ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, ভোটারদের ভয় দেখানো বা ভোটদানে বাধা দেওয়ার মতো কোনও ঘটনার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র এফআইআর বা নোটিস জারি করেই থেমে না থেকে প্রয়োজনে আগাম আটক করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট বুথ ও এলাকায় টহলদারি বাড়ানোর পাশাপাশি সম্ভাব্য অশান্তিপূর্ণ ব্যক্তিদের উপর কড়া নজর রাখার কথাও বলা হয়েছে।
এই নির্দেশ ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, কমিশন পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করছে এবং একতরফাভাবে তাদের প্রার্থী ও সংগঠকদের লক্ষ্য করা হচ্ছে। দলের দাবি, অন্যদিকে বিজেপির একাধিক প্রার্থীর বিরুদ্ধে অপরাধমূলক মামলা থাকা সত্ত্বেও কমিশন সে বিষয়ে একই ধরনের কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে না।
এই ইস্যুতে কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলাও দায়ের হয়েছে। মামলাকারীর আইনজীবীর বক্তব্য অনুযায়ী, বিষয়টির জরুরি শুনানি বুধবার হতে পারে। পুরো পরিস্থিতি ঘিরে ভোটের আগে রাজ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
নির্বাচন কমিশনের এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে দোষারোপের রাজনীতি আরও তীব্র হয়েছে, আর ভোটের মুখে পরিস্থিতি নজরদারির কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে।



















