রাজ্য -;বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হল শুক্রবার। প্রত্যাশামতোই রাজ্যের প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হলেন Suvendu Adhikari। কলকাতার Biswa Bangla Convention Centre-এ বিজেপির পরিষদীয় দলীয় বৈঠকের পর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Amit Shah আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর নাম ঘোষণা করেন।
নাম ঘোষণার মুহূর্তে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন শুভেন্দু অধিকারী। চোখে জল নিয়ে অমিত শাহর হাত ধরে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে দেখা যায় তাঁকে। দীর্ঘ ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটিয়ে বাংলায় বিজেপির ক্ষমতায় আসার মুখ হয়ে উঠলেন কাঁথির অধিকারী পরিবারের এই নেতা।
শুভেন্দুর মুখ্যমন্ত্রী হওয়া নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা অনেকদিন ধরেই চলছিল। এবারের নির্বাচনে নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর— দুই কেন্দ্র থেকেই বড় ব্যবধানে জয় পান তিনি। বিশেষ করে ভবানীপুর কেন্দ্রে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee-কে পরাজিত করা বিজেপির কাছে ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ রাজনৈতিক সাফল্য। সেই কারণেই পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচনের দৌড়ে শুভেন্দুই যে এগিয়ে, তা অনেকটাই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল।
২০২০ সালে তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে অমিত শাহর হাত ধরে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। এরপর থেকেই বাংলায় বিজেপির সংগঠনকে শক্তিশালী করার অন্যতম মুখ হয়ে ওঠেন তিনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জেলা স্তরে সংগঠন মজবুত করা, কর্মীদের সক্রিয় রাখা এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় বজায় রেখে বিজেপির জমি শক্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন শুভেন্দু।
দলীয় সূত্রের দাবি, সেই ধারাবাহিক রাজনৈতিক লড়াই এবং সাংগঠনিক পরিশ্রমের স্বীকৃতি হিসেবেই তাঁকে মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব Narendra Modi এবং অমিত শাহ আগামী পাঁচ বছরের প্রশাসনিক দায়িত্ব তাঁর হাতেই তুলে দিয়েছেন বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
শুক্রবারের বৈঠকে বিজেপির সব নবনির্বাচিত বিধায়ক উপস্থিত ছিলেন। সেখানেই অমিত শাহ পরিষদীয় দলনেতা হিসেবে শুভেন্দুর নাম প্রস্তাব করেন এবং সর্বসম্মতিক্রমে সেই প্রস্তাব গৃহীত হয়। পরে সাংবাদিকদের সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর নাম ঘোষণা করা হয়।
আগামী শনিবার কলকাতার Brigade Parade Ground-এ নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন শুভেন্দু অধিকারী। বিজেপি সূত্রে খবর, অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহ-সহ একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা এবং বিজেপি শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা।
এছাড়াও জানা গিয়েছে, বাংলায় এবার দু’জন উপমুখ্যমন্ত্রীও থাকতে পারেন। যদিও তাঁদের নাম এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আঞ্চলিক ও সামাজিক ভারসাম্য বজায় রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দুর সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে প্রশাসনিক স্থিতি ফিরিয়ে আনা, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণ এবং কেন্দ্র-রাজ্যের সমন্বয় বজায় রেখে উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত করা। একসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ সহযোদ্ধা হিসেবে পরিচিত শুভেন্দুই এখন বাংলার নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের মুখ।




















