দেশ – পাঁচ রাজ্যের নির্বাচন পর্ব শেষ হতেই এবার জ্বালানি তেল ও রান্নার গ্যাসের দাম বৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়ে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। সরকারি সূত্রের খবর, আগামী ১৫ মে-র আগেই পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বাড়ানো হতে পারে। পাশাপাশি বাড়তে পারে গৃহস্থালির রান্নার গ্যাসের দামও। ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের স্তরে আলোচনা শুরু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
সূত্রের দাবি, লিটার পিছু পেট্রোল ও ডিজেলের দাম ৪ থেকে ৫ টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে। একইসঙ্গে ১৪.৫ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দামেও বড়সড় বৃদ্ধি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। যদিও কেন্দ্রের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি, তবুও বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
পশ্চিম এশিয়ায় চলতে থাকা যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যাপকভাবে বেড়েছে। বিশ্বজুড়ে তৈরি হয়েছে তেলের সংকট। এতদিন সেই বাড়তি চাপ সাধারণ মানুষের উপর পড়তে দেয়নি কেন্দ্র সরকার। কিন্তু ভোটপর্ব শেষ হওয়ার পর পরিস্থিতি নতুন করে পর্যালোচনা শুরু হয়েছে বলে খবর। একাধিক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সরকারি সূত্রকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, আগামী ৫ থেকে ৭ দিনের মধ্যেই মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে লাগাতার বৃদ্ধির ফলে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণনকারী সংস্থাগুলির উপর চাপ ক্রমশ বাড়ছে। এতদিন পর্যন্ত উৎপাদন ব্যয়ের অতিরিক্ত অংশ নিজেদেরই বহন করেছে ওই সংস্থাগুলি। এর জেরে প্রতি মাসে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে তেল সংস্থাগুলিকে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের উপর চাপ না বাড়িয়ে ব্যবসা চালানো কঠিন হয়ে উঠছে বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।
তবে জ্বালানির দাম বাড়লে দেশে মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কাও বাড়বে। পরিবহণ খরচ বৃদ্ধি পেলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও বাড়তে পারে। তাই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব যাতে সাধারণ মানুষের উপর কম পড়ে, সেই বিষয়েও ভাবনাচিন্তা করছে কেন্দ্র বলে সূত্রের খবর।
উল্লেখ্য, ভোট মিটতেই ইতিমধ্যেই বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলি। শুক্রবার একধাক্কায় ১৯ কেজির বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডারের দাম ৯৯৩ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি অটো এলপিজির দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। এক ধাক্কায় ৬ টাকা ৪৪ পয়সা বেড়েছে এই জ্বালানির দাম। এরপরেই আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, এবার সাধারণ মানুষের ব্যবহৃত রান্নার গ্যাস ও পেট্রোল-ডিজেলের দামেও বড়সড় বৃদ্ধি হতে পারে।




















