কলকাতা – কলকাতার ময়দান এলাকায় ফের সামনে এল এক হৃদয়বিদারক ঘটনা। ক্রমাগত কান্না সহ্য করতে না পেরে নিজের শিশুকন্যাকেই পিটিয়ে খুন করার অভিযোগ উঠল এক বাবার বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, খুনের পর প্রমাণ লোপাট করতে শিশুটির দেহ প্লাস্টিকে মুড়ে ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে। ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত দেবজিৎ জানা ওরফে শুভজিৎকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর অভিযুক্ত নিজের অপরাধ স্বীকার করেছে। তবে এখনও পর্যন্ত শিশুটির দেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। পুলিশ কলকাতা পুরসভার সঙ্গেও যোগাযোগ করেছে এবং আবর্জনা ফেলার বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
জানা গিয়েছে, ময়দানের ব্রিগেড সংলগ্ন এলাকায় স্ত্রী ও সদ্যোজাত কন্যাকে নিয়ে থাকতেন দেবজিৎ। কয়েক মাস আগেই জন্ম হয়েছিল শিশুটির। অভিযোগ, মেয়ের দেখভাল নিয়ে প্রায়ই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অশান্তি লেগে থাকত। শিশুটির মা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত থাকায় ঠিকমতো সন্তানের যত্ন নিতে পারতেন না বলেই দাবি তদন্তকারীদের। অন্যদিকে অভিযুক্ত দেবজিৎ নিয়মিত মদ্যপান করতেন বলেও জানা গিয়েছে।
পুলিশের দাবি, ঘটনার দিন শিশুকন্যাটি বাবার কোলে থাকার সময় কান্নাকাটি শুরু করে। সেই সময় অভিযুক্ত মদ্যপ অবস্থায় ছিল। কান্না থামাতে না পেরে সে শিশুটিকে মারধর শুরু করে বলে অভিযোগ। এমনকি শিশুটিকে চড় ও ঘুসিও মারা হয় বলে দাবি। সেই আঘাত সহ্য করতে না পেরেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে বলে মনে করছে পুলিশ।
ঘটনার পর স্ত্রীকে কিছু না জানিয়ে শিশুটির দেহ প্লাস্টিকে মুড়ে ময়দানের একটি ডাস্টবিনে ফেলে দেয় অভিযুক্ত। পরে আবর্জনা সংগ্রহের গাড়ি অন্যান্য ময়লার সঙ্গে সেই দেহও নিয়ে চলে যায় বলে অনুমান তদন্তকারীদের।
এদিকে শিশুকন্যাকে খুঁজে না পেয়ে মা প্রতিবেশীদের সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ শুরু করেন। কোথাও মেয়েকে না পেয়ে শেষ পর্যন্ত ময়দান থানায় অপহরণের অভিযোগ দায়ের করা হয়। তদন্ত শুরু করে পুলিশ এলাকার বাসিন্দাদের পাশাপাশি শিশুটির বাবাকেও জিজ্ঞাসাবাদ করে। তখনই দেবজিতের আচরণে সন্দেহ হয় তদন্তকারীদের। দীর্ঘ জেরার মুখে শেষ পর্যন্ত ভেঙে পড়ে সে।
সম্প্রতি ময়দান এলাকাতেই আরেক শিশুকন্যা খুনের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের একই এলাকায় এমন নৃশংস ঘটনা সামনে আসায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তকে জেরা করে আরও তথ্য জানার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি শিশুটির দেহ উদ্ধারে তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে।



















