খেলা – ইংল্যান্ড সিরিজের আগে প্রস্তুতির মঞ্চ হিসেবে ধরা হয়েছিল আয়ারল্যান্ড সফরকে। কিন্তু সেই প্রস্তুতির শুরুতেই বড় ধাক্কা খেল ভারত। বেলফাস্টের সিভিল সার্ভিস ক্রিকেট ক্লাবে অনুষ্ঠিত প্রথম টি-২০ ম্যাচে ৩৪ রানে ভারতকে হারিয়ে ইতিহাস গড়ল আয়ারল্যান্ড। টি-২০ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এই প্রথম ভারতের বিরুদ্ধে জয় তুলে নিল আইরিশরা।
টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় আয়ারল্যান্ড। মাত্র ৫১ রানের মধ্যে চার উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় স্বাগতিক দল। ওপেনার টিম টেক্টর ১৭ এবং রস অ্যাডেয়ার ১২ রান করলেও হ্যারি টেক্টর কোনও রান না করেই ফিরে যান। কঠিন পরিস্থিতিতে দলের হাল ধরেন উইকেটরক্ষক-ব্যাটার লরকান টাকার। দুরন্ত অর্ধশতরান করে তিনি ইনিংসকে স্থিতি দেন। অন্য প্রান্তে গ্যারেথ ডিলানি ৬৪ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে আয়ারল্যান্ডকে শক্ত ভিত এনে দেন। শেষদিকে বেঞ্জামিন ক্যালিটজ ও জর্জ ডকরেলের কার্যকরী ব্যাটিংয়ে নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৮২ রান তোলে স্বাগতিকরা।
ভারতের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন হর্ষিত রানা। চার ওভারে ২৪ রান দিয়ে তিনটি উইকেট নেন তিনি। অক্ষর পটেল ও অর্শদীপ সিং দুটি করে উইকেট পেলেও প্রসিধ কৃষ্ণ চার ওভারে ৫৭ রান খরচ করে ব্যয়বহুল প্রমাণিত হন।
১৮৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন অভিষেক শর্মা। মাত্র ১৯ বলে অর্ধশতরান পূর্ণ করলেও অন্য প্রান্ত থেকে কোনও সমর্থন পাননি তিনি। সঞ্জু স্যামসন ৫, ইশান কিষাণ ১ এবং অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার মাত্র ৩ রান করে ফিরে যান। অভিষেক ৫০ রানে আউট হওয়ার পর ভারতের ব্যাটিং লাইনআপ দ্রুত ভেঙে পড়ে। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় ভারত।
আয়ারল্যান্ডের হয়ে ম্যাথিউ হামফ্রিস ও ম্যাথিউ হলার্ড তিনটি করে উইকেট নিয়ে ভারতের ব্যাটিংকে কার্যত গুঁড়িয়ে দেন। তাঁদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে বড় কোনও জুটি গড়তে পারেননি ভারতীয় ব্যাটাররা।
ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ সিরিজের আগে এই হার ভারতীয় দলের জন্য বড় সতর্কবার্তা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে মধ্যক্রমের ধারাবাহিক ব্যর্থতা এবং ফিনিশিং বিভাগ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হওয়ার আগে ব্যাটিং কম্বিনেশন নিয়ে টিম ম্যানেজমেন্টকে নতুন করে ভাবতে হবে বলেই মনে করছেন ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা।




















