রাজ্য – পশ্চিমবঙ্গে শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানকে গতি দিতে আগামী সেপ্টেম্বরেই প্রথম শিল্প সম্মেলনের আয়োজন করতে চলেছে রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকার। সরকারের লক্ষ্য, শুধুমাত্র সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষর বা বড় অঙ্কের বিনিয়োগের ঘোষণা নয়, বরং এমন প্রকল্প সামনে আনা, যেগুলির কাজ আগামী এক বছরের মধ্যেই বাস্তবে শুরু হবে। নবান্ন সূত্রে দাবি, অন্তত দুই থেকে তিনটি বড় শিল্প প্রকল্পের নিশ্চিত ঘোষণা করার প্রস্তুতি চলছে।
সরকার ইতিমধ্যেই চলতি অর্থবর্ষের বাজেটে একটি নতুন ইনসেনটিভ পলিসি বা আর্থিক উৎসাহ প্রকল্পের ঘোষণা করেছে। এই প্রকল্পের জন্য প্রাথমিকভাবে ৫,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, সেপ্টেম্বরের শিল্প সম্মেলনের পর থেকেই মূলত শ্রমনির্ভর মাঝারি শিল্প সংস্থাগুলিকে এই আর্থিক সুবিধা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।
নবান্ন সূত্রের দাবি, অতীতে বাতিল হয়ে যাওয়া শিল্প ভর্তুকি ও আর্থিক সহায়তা প্রকল্পকেও নতুনভাবে চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ৫,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ হলেও ভবিষ্যতে ধাপে ধাপে এই তহবিল আরও বাড়ানো হতে পারে বলে প্রশাসনিক সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে।
সরকারের দাবি, রাজ্যে শিল্পবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে একাধিক নীতিগত পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ১০০ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সিঙ্গল-উইন্ডো ব্যবস্থার মাধ্যমে এক জায়গা থেকেই সমস্ত সরকারি অনুমোদন দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি শিল্প করিডোরভিত্তিক ইনভেস্টমেন্ট প্রমোশন ফ্রেমওয়ার্ক, আর্বান ল্যান্ড সিলিং আইনের সংস্কার, নতুন ল্যান্ড ব্যাঙ্ক গঠন, বন্ধ শিল্পাঞ্চলের অব্যবহৃত জমির পুনর্ব্যবহার এবং ২৪ ঘণ্টা ব্যবসা পরিচালনার অনুমতির মতো পদক্ষেপও নেওয়া হচ্ছে।
সরকার আরও জানিয়েছে, সিন্ডিকেট রাজ, তোলাবাজি এবং বেআইনি অর্থ আদায় রুখতে কঠোর আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও স্টার্ট-আপ নীতি, ট্যালেন্ট অ্যাট্রাকশন ফান্ড, গ্লোবাল ক্যাপাবিলিটি সেন্টার (GCC) পলিসি এবং কলকাতা স্টক এক্সচেঞ্জকে পুনরুজ্জীবিত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই একাধিক বড় শিল্পগোষ্ঠী রাজ্যে বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে। শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়, শিল্প সচিব বন্দনা যাদব এবং সংশ্লিষ্ট দফতরের আধিকারিকরা সেই প্রস্তাবগুলির বিস্তারিত মূল্যায়ন করছেন। বিনিয়োগকারীদের প্রকল্প বাস্তবায়নের সক্ষমতা ও সময়সীমা বিবেচনা করেই কয়েকটি চূড়ান্ত প্রস্তাব সেপ্টেম্বরের সম্মেলনে ঘোষণা করা হবে।
রাজ্যের শিল্পোন্নয়ন নিয়ে অতীতের দাবি-প্রতিদাবির মধ্যেই নতুন সরকার এবার বাস্তব প্রকল্পের উপর জোর দিচ্ছে বলে দাবি করছে প্রশাসন। সেপ্টেম্বরের শিল্প সম্মেলন থেকে ঘোষিত প্রকল্পগুলির বাস্তবায়ন কত দ্রুত শুরু হয়, তার উপরই আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গের শিল্প ও কর্মসংস্থানের ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করবে।




















