রাজ্য – তিলজলার ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এবার এফআইআর দায়েরের নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী Suvendu Adhikari। মঙ্গলবার ঘটনাটি নিয়ে কড়া অবস্থান নিয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, বেআইনি কারখানা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, বুধবার সকাল ১১টার মধ্যে রিপোর্ট জমা পড়বে এবং তারপরই এফআইআর করা হবে। তিনি বলেন, “এই ধরনের কাজ আর করতে দেওয়া হবে না। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব মানুষ ভারতীয় জনতা পার্টিকে দিয়েছে।”
এদিন ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান মন্ত্রী Agnimitra Paul। পরে হাসপাতালে গিয়ে আহতদের সঙ্গেও দেখা করেন তিনি এবং তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
মঙ্গলবার তিলজলার একটি চামড়ার কারখানায় ভয়াবহ আগুন লাগে। ঘটনায় দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের নাম মহম্মদ হাসানুজ্জামান ও রাজেত আলি মণ্ডল। আগুনে ঝলসে তাঁদের মৃত্যু হয় বলে জানা গিয়েছে। এছাড়া আরও তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। তাঁদের Chittaranjan National Medical College and Hospital-এ ভর্তি করা হয়েছে।
আহতদের মধ্যে মহম্মদ ইউসুফ ও গৌর সর্দার নামে দু’জনকে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছে। ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়েছেন মহম্মদ তানভির নামে আরও এক যুবক। চিকিৎসকদের মতে, অতিরিক্ত ধোঁয়া শ্বাসনালী ও ফুসফুসে প্রবেশ করায় দু’জনের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে ওঠে।
জানা গিয়েছে, তিলজলার ওই বহুতলে একটি লেদার কোম্পানি ছিল। সেখানকার দ্বিতীয় তলায় মঙ্গলবার দুপুর পৌনে দু’টো নাগাদ আগুন লাগে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে গোটা অংশে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় দমকলের দুটি ইঞ্জিন। দমকলকর্মীদের তৎপরতায় প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। পরে গুরুতর জখম অবস্থায় পাঁচজনকে উদ্ধার করা হয়।
এক প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি, বিল্ডিংয়ে দু’দিকে গেট থাকলেও আগুনের তীব্রতায় বেরোনোর পরিস্থিতি ছিল না। দরজার কাছেই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে একজনের বাড়ি হাড়োয়ায় এবং অন্যজনের বাড়ি পার্ক সার্কাস সংলগ্ন এলাকায় বলে জানা গিয়েছে।
এই ঘটনার পর বেআইনি কারখানা ও নিরাপত্তাহীন কর্মপরিবেশ নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে শহরে। প্রশাসন সূত্রে খবর, আগুন লাগার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।




















