নাবালিকা নির্যাতন ও বাল্যবিবাহ রুখতে কড়া বার্তা, ওসিদের বিশেষ নির্দেশ পুলিশ কমিশনারের

নাবালিকা নির্যাতন ও বাল্যবিবাহ রুখতে কড়া বার্তা, ওসিদের বিশেষ নির্দেশ পুলিশ কমিশনারের

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


রাজ্য – নাবালিকাদের উপর যৌন নির্যাতন, পকসো মামলা এবং বাল্যবিবাহ রোধে এবার কড়া অবস্থান নিল Kolkata Police। নতুন সরকার গঠনের পর মঙ্গলবার আলিপুর বডিগার্ড লাইনে প্রত্যেক থানার ওসি ও লালবাজারের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিলেন পুলিশ কমিশনার Ajay Nanda। বৈঠকে তিনি স্পষ্ট জানান, কোনও রাজনৈতিক পরিচয় না দেখে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।
বৈঠকে নাবালিকাদের উপর নির্যাতন এবং বাল্যবিবাহের বাড়বাড়ন্ত নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন পুলিশ কমিশনার। তিনি মনে করিয়ে দেন, Raja Ram Mohan Roy কলকাতায় বসেই বাল্যবিবাহ রোধে আন্দোলন করেছিলেন। অথচ সেই শহরেই এখনও নাবালিকা বিয়ের ঘটনা ঘটছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত কয়েক বছরে প্রায় ৩০০টি পকসো মামলার নিষ্পত্তি হয়নি। বহু ক্ষেত্রে এখনও পর্যন্ত চার্জশিট জমা পড়েনি। ফলে অভিযুক্তরা সহজেই জামিন পেয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে পকসো মামলাগুলিতে দ্রুত তদন্ত শেষ করে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন কমিশনার।
বৈঠকে উঠে আসে, অনেক ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যরাই নাবালিকাদের বিয়ে দিয়ে দিচ্ছেন। আবার বহু নাবালিকা পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করে পরে এলাকায় ফিরে আসছে। বেশিরভাগ সময় পরিবার সেই সম্পর্ক মেনে নিচ্ছে এবং পুলিশের কাছেও কোনও অভিযোগ দায়ের করা হচ্ছে না। পরে সন্তান প্রসবের সময় হাসপাতালে ভর্তি হলে বিষয়টি সামনে আসছে। কিছু ক্ষেত্রে পকসো আইনে গ্রেপ্তার হলেও অনেক ক্ষেত্রেই কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
এই পরিস্থিতিতে প্রত্যেক থানার ওসিকে বিশেষ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনও নাবালিকার বিয়ের খবর পেলেই তা আটকাতে হবে। এমনকি বিয়ের পরেও যদি ঘটনা সামনে আসে, তাহলেও কড়া আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। নির্দেশ অনুযায়ী, নাবালিকার স্বামী এবং যারা এই বিয়ে মেনে নিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধেও Protection of Children from Sexual Offences Act এবং বাল্যবিবাহ রোধ আইন অনুযায়ী মামলা দায়ের করতে হবে।
মহিলা সংক্রান্ত অভিযোগের ক্ষেত্রেও দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশ কমিশনার। অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তদন্ত শুরু করতে হবে এবং অভিযুক্তদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে বলে জানানো হয়েছে।
একইসঙ্গে রাজনৈতিক সংঘর্ষ ও অপরাধ দমনে নিরপেক্ষ ভূমিকা নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। কমিশনার স্পষ্ট জানিয়েছেন, অপরাধীর রাজনৈতিক পরিচয় দেখে কোনও রকম ছাড় দেওয়া হবে না। লালবাজার সূত্রে দাবি, কিছু ব্যক্তি নিজেদের বিজেপি কর্মী পরিচয় দিয়ে হিংসাত্মক ঘটনার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। তাঁদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও ফরেনসিক বিভাগের পরিকাঠামো ও তদন্ত প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও বৈঠকে জানানো হয়েছে।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top