বিদেশ – Iran ও Israel-এর মধ্যে ক্রমবর্ধমান সংঘাত ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পশ্চিম এশিয়া। তার সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও। এই পরিস্থিতিতে ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হলেও দেশবাসীকে আশ্বস্ত করলেন কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রী Hardeep Singh Puri। মঙ্গলবার দিল্লিতে Confederation of Indian Industry-র বার্ষিক সম্মেলনে তিনি জানান, দেশে জ্বালানির সরবরাহ নিয়ে আপাতত কোনও সমস্যা নেই।
মন্ত্রী জানান, বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রয়েছে ভারতের কাছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, দেশে অন্তত ৬০ দিনের অপরিশোধিত তেলের মজুত রয়েছে। পাশাপাশি ৬০ দিনের এলএনজি এবং ৪৫ দিনের এলপিজি মজুতও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে অযথা উদ্বেগ কেন তৈরি করা হচ্ছে।
জ্বালানি সাশ্রয় নিয়ে সরকারের সাম্প্রতিক বার্তাকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা না করার আবেদনও জানান হরদীপ সিং পুরী। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi দেশবাসীকে অপ্রয়োজনীয় জ্বালানি ব্যবহার কমানো এবং গণপরিবহন ব্যবহারে উৎসাহিত করেছিলেন। সেই প্রেক্ষিতেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর এই মন্তব্যকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে সরকারের আশ্বাসের মাঝেই সতর্কবার্তা দিয়েছেন বিশিষ্ট ব্যাঙ্কার Uday Kotak। তাঁর মতে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির যে মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে, তার পূর্ণ প্রভাব এখনও ভারতের বাজারে এসে পৌঁছয়নি। কিন্তু আগামী দিনে বড় ধাক্কা আসতে পারে বলেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।
উদয় কোটাকের মতে, জ্বালানির দাম আরও বাড়লে দেশে মুদ্রাস্ফীতি ভয়াবহ আকার নিতে পারে। তার সরাসরি প্রভাব পড়বে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের উপর। যাতায়াত খরচ থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম—সব ক্ষেত্রেই বাড়তি চাপ তৈরি হবে সাধারণ মানুষের উপর।
একদিকে কেন্দ্রের আশ্বাস, অন্যদিকে অর্থনীতিবিদদের সতর্কবার্তা—এই দুইয়ের মাঝেই পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি এখন ভারতের অর্থনীতি ও বাজারের জন্য অন্যতম বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।




















