রাজ্য – পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদলের পর এবার শিল্প ও কর্মসংস্থান নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। নতুন সরকারের শিল্পনীতি কী হবে, তা নিয়ে ব্যবসায়ী মহলের আগ্রহের মধ্যেই মঙ্গলবার গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিলেন Samik Bhattacharya। বেঙ্গল ন্যাশনাল চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে তিনি দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গে শিল্পের নতুন পরিবেশ তৈরি করা হবে এবং শিল্পপতিদের বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ নিরাপত্তা ও সহযোগিতা দেবে সরকার।
এর আগেই সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী Suvendu Adhikari চাকরির ক্ষেত্রে যুবক-যুবতীদের জন্য পাঁচ বছরের বয়সে ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তার পরদিনই শিল্প ও কর্মসংস্থান নিয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতির এই বার্তা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শমীক ভট্টাচার্য বলেন, পশ্চিমবঙ্গে কর্মসংস্থানের উন্নতির জন্য বড় শিল্প অত্যন্ত প্রয়োজন। তাঁর দাবি, শিল্পের জন্য উপযুক্ত জমিনীতি খুব শীঘ্রই আনা হবে। পাশাপাশি তিনি আশ্বাস দেন, নতুন সরকারের আমলে শিল্প স্থাপনের ক্ষেত্রে কোনও ধরনের ‘তোলাবাজি’ বা ‘কাটমানি’ সংস্কৃতি বরদাস্ত করা হবে না। শিল্পপতিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কারখানা গড়তে গেলে কোনও রাজনৈতিক দল আর টাকা চাইতে যাবে না।
পূর্ববর্তী সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি অভিযোগ করেন, গত ১৫ বছরে সরকার এবং শাসকদলের মধ্যে পার্থক্য প্রায় মুছে গিয়েছিল। তাঁর কথায়, সেই কারণেই শিল্পপতিরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতেন এবং বহু শিল্পপতি বাধ্য হয়ে উত্তরপ্রদেশ কিংবা উত্তরাখণ্ডের মতো রাজ্যে বিনিয়োগ সরিয়ে নিয়ে যান। বাংলার শিল্পক্ষেত্রে দলীয় দখলদারিরও অবসান হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
শমীক ভট্টাচার্য আরও বলেন, বর্তমান সরকার কোনও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সরকার নয়, এটি পশ্চিমবঙ্গের সরকার। তাই বিনিয়োগকারীদের ভয় কাটিয়ে বাংলায় শিল্প স্থাপনের আহ্বান জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য, শিল্পপতিদের উপর কোনও রকম চাপ সৃষ্টি করা হবে না এবং সরকার সব ধরনের প্রশাসনিক সহযোগিতা করবে।
বিনিয়োগ বাড়াতে শিল্পপতিদের উদ্দেশে এদিন স্পষ্ট বার্তা দেন বিজেপি নেতা। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বাংলার শিল্প অন্য রাজ্যে চলে গিয়েছে। এবার সেই পরিস্থিতি বদলাতে চায় নতুন সরকার। তাই শিল্পমহলকে পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগের জন্য এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।




















