সোনা পাপ্পু-কাণ্ডে ইডির জালে কলকাতা পুলিশের ডিসি শান্তনু সিনহা বিশ্বাস, সিএবি প্রতিনিধিত্বও বাতিল

সোনা পাপ্পু-কাণ্ডে ইডির জালে কলকাতা পুলিশের ডিসি শান্তনু সিনহা বিশ্বাস, সিএবি প্রতিনিধিত্বও বাতিল

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


রাজ্য – সোনা পাপ্পু-কাণ্ডে বড় পদক্ষেপ করল Enforcement Directorate। প্রায় সাড়ে ১০ ঘণ্টার ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের পর কলকাতা পুলিশের ডিসি Shantanu Sinha Biswas-কে গ্রেপ্তার করেছে ইডি। দীর্ঘদিন ধরেই তদন্তকারী সংস্থা তাঁকে তলব করছিল বলে জানা গিয়েছে। ইডি সূত্রের দাবি, পাঁচবার নোটিস পাঠানো হলেও তিনি হাজিরা এড়িয়ে যাচ্ছিলেন এবং তদন্তে সহযোগিতাও করছিলেন না। শেষ পর্যন্ত বৃহস্পতিবার ইডি দফতরে হাজিরা দিতে গেলে সেদিনই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারের আগেই বড় সিদ্ধান্ত নেয় Calcutta Police Club। ক্লাবের এক্সিকিউটিভ কমিটির বৈঠকে শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের সদস্যপদ সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই মর্মে Cricket Association of Bengal-কে চিঠিও পাঠানো হয়েছে। এতদিন তিনি ক্যালকাটা পুলিশ ক্লাবের প্রতিনিধি হিসেবে সিএবি-র সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বর্তমানে তাঁর সেই প্রতিনিধিত্বও বাতিল করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
চলতি আইপিএলে শান্তনুর জন্য সিএবি অ্যাক্রিডিটেশন কার্ডও ইস্যু করা হয়েছিল। তবে গ্রেপ্তারের পর সেই কার্ড কার্যত নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে তা এখনও বাতিল করা হয়নি। ইডির লুক আউট নোটিস জারির পরও কেন তাঁর অ্যাক্রিডিটেশন বহাল ছিল, তা নিয়েও সিএবি-র অন্দরে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সিএবি-র এক কর্তার বক্তব্য, ক্লাব কাকে প্রতিনিধি করবে, তা সম্পূর্ণ তাদের নিজস্ব বিষয়। সিএবি শুধুমাত্র ক্লাব রিপ্রেজেন্টেটিভ হিসেবে আমন্ত্রণপত্র বা টিকিট পাঠায়। পাশাপাশি তাঁর মন্তব্য, “অভিযুক্ত মানেই অপরাধী নয়, আগে দোষ প্রমাণিত হোক।”
এদিকে আদালতে শান্তনু সিনহা বিশ্বাসকে হেফাজতে চেয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ করেছে ইডি। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, কাউন্সিলরদের তোলাবাজির র‌্যাকেট পরিচালনায় পুলিশি ‘ম্যানেজমেন্ট’-এর দায়িত্বে ছিলেন তিনি। ইডির অভিযোগ অনুযায়ী, প্রোমোটার, অপরাধী ও পুলিশের এক ত্রিমুখী সিন্ডিকেট চলত তাঁর ছত্রছায়ায়।
তদন্তকারী সংস্থা আদালতে জানিয়েছে, কোনও এলাকায় বাড়ি তৈরির কাজ শুরু হওয়ার আগেই সেখানে পৌঁছে যেত কাউন্সিলরদের লোকজন। প্রোমোটারদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার পর নির্দিষ্ট সিন্ডিকেট থেকেই নির্মাণ সামগ্রী কিনতে বাধ্য করা হত। কেউ সেই নির্দেশ না মানলে গুনতে হত মোটা অঙ্কের জরিমানা। ইডির দাবি, এই গোটা চক্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন ধৃত ডিসিপি শান্তনু সিনহা বিশ্বাস।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে কলকাতার প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তদন্ত এগোলে আরও বিস্ফোরক তথ্য সামনে আসতে পারে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top