তিলজলা অগ্নিকাণ্ড মামলায় কড়া হাই কোর্ট, ‘ব্যাঙের ছাতার মতো বেআইনি নির্মাণ বাড়ছে কলকাতায়’

তিলজলা অগ্নিকাণ্ড মামলায় কড়া হাই কোর্ট, ‘ব্যাঙের ছাতার মতো বেআইনি নির্মাণ বাড়ছে কলকাতায়’

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram

কলকাতা – তিলজলায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর যে বহুতলকে ঘিরে বিতর্ক শুরু হয়েছিল, সেই মামলাতেই এবার কড়া মন্তব্য করল Calcutta High Court। অভিযোগ, বহুতলটি বেআইনিভাবে তৈরি হয়েছিল এবং সেখানে নিয়ম না মেনেই কারখানা চলছিল। আগুন লাগার পর প্রশাসন বুলডোজার চালিয়ে ভাঙার কাজ শুরু করে। সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয় মালিকপক্ষ। শুক্রবার মামলার শুনানিতে শুধু ওই বহুতল নয়, গোটা কলকাতায় বেআইনি নির্মাণ বেড়ে চলা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে হাই কোর্ট।
শুক্রবার বিচারপতি Raja Basu Chowdhury-র বেঞ্চ নির্দেশ দেয়, আপাতত বর্তমান পরিস্থিতি যেমন আছে তেমনই বজায় রাখতে হবে। তবে যে অংশ ইতিমধ্যেই ভাঙা হয়েছে, সেখানে যদি কোনও বিপজ্জনক অংশ থেকে থাকে, তাহলে বাড়ির মালিকের সঙ্গে কথা বলে Kolkata Municipal Corporation প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবে। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, সমস্ত পদক্ষেপ আইন মেনেই করতে হবে।
শুনানির সময় বিচারপতি মন্তব্য করেন, “ব্যাঙের ছাতার মতো বেআইনি নির্মাণ বেড়েই চলেছে।” এই ধরনের নির্মাণ শহরের নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক বলেও পর্যবেক্ষণ আদালতের। শুনানিতে আরও উঠে আসে, সংশ্লিষ্ট বহুতলের অনুমোদিত নকশা দেখাতে পারেনি মালিকপক্ষ।
গত ১২ মে তিলজলার ওই বহুতলে আগুন লাগে। জানা যায়, বহুতলের ভিতরে থাকা একটি কারখানায় প্রথম আগুন ছড়ায়। ঘটনায় দু’জনের মৃত্যু হয়। এরপর প্রশাসনের তরফে দাবি করা হয়, বহুতলটি বেআইনিভাবে তৈরি হয়েছিল। তারপরই বুলডোজার দিয়ে ভাঙার কাজ শুরু হয়।
মামলাকারীদের আইনজীবী Bikash Ranjan Bhattacharya আদালতে দাবি করেন, কোনও নোটিস না দিয়েই ভাঙার কাজ শুরু করা হয়েছিল। তাই মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ভাঙার কাজ বন্ধ রাখার আবেদন জানান তিনি। পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও জল পরিষেবাও পুনরায় চালু করার আর্জি জানানো হয়।
অন্যদিকে পুরসভার আইনজীবী Joydeep Kar আদালতে দাবি করেন, ওই কারখানার প্রয়োজনীয় দমকল বা পরিবেশ সংক্রান্ত কোনও লাইসেন্স ছিল না। এমনকী রাজ্যের অনুমতিও নেওয়া হয়েছিল কি না, তা স্পষ্ট নয়। তাঁর বক্তব্য, পুরসভা শুধুমাত্র ওই সম্পত্তির ব্যবহার বন্ধ করতে চাইছে।
পুলিশের তরফে আদালতে জানানো হয়, এখনও বহুতলের কিছু অংশে মানুষ বসবাস করছেন। তবে এরপরও কেউ সেখানে থাকলে তার দায় তাঁদের নিজেদেরই নিতে হবে বলে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ২২ জুন।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top