উত্তর 24 পরগণা – চোখের সামনে ঠাকুরদাকে খুন হতে দেখেছিল নাতি। সেই ভয়াবহ ঘটনার সাক্ষী হয়েই শেষ পর্যন্ত নিজের বাবার বিরুদ্ধে আদালতে সাক্ষ্য দিল ছেলে। আর সেই বয়ানের ভিত্তিতেই অভিযুক্ত বাবাকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দিল বনগাঁ মহকুমা আদালত।
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২০ সালের ১২ ডিসেম্বর বনগাঁর ঢাকা পাড়ায় বৃদ্ধ Chittaranjan Biswas-কে ধারালো অস্ত্র দিয়ে খুনের অভিযোগ ওঠে তাঁর বড় ছেলে Tapan Biswas-এর বিরুদ্ধে। অভিযোগ ছিল, বাবার সমস্ত সম্পত্তি নিজের নামে লিখিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছিল তপন। কিন্তু বৃদ্ধ তাতে আপত্তি জানাতেই তাঁর উপর হামলা চালানো হয়।
এই গোটা ঘটনার অন্যতম প্রধান সাক্ষী ছিল অভিযুক্তেরই ছেলে তথা মৃতের নাতি Tanmoy Biswas। ঘটনার পর বনগাঁ থানায় অভিযোগ দায়ের হলে পুলিশ তপন বিশ্বাসকে গ্রেপ্তার করে আদালতে তোলে। তারপর থেকেই জেল হেফাজতে রেখে চলছিল মামলার বিচার প্রক্রিয়া।
মামলায় প্রথমে মোট ১৪ জন সাক্ষী ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। অভিযুক্তের স্ত্রী প্রথমদিকে স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করলেও পরে তিনি-সহ আরও ৮ জন সাক্ষ্যদান থেকে সরে দাঁড়ান। কিন্তু তপনের ছেলে তন্ময় বিশ্বাস নিজের বক্তব্য থেকে একচুলও সরেননি। আদালতে স্পষ্টভাবে তিনি জানান, তাঁর বাবাই ঠাকুরদাকে খুন করেছেন।
বনগাঁ মহকুমা আদালতের আইনজীবী Joydeb Haldar জানিয়েছেন, মেডিক্যাল রিপোর্ট এবং তন্ময় বিশ্বাসের সাক্ষ্যের ভিত্তিতেই বিচারক অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করেন। সমস্ত প্রমাণ ও সাক্ষ্য খতিয়ে দেখে শুক্রবার আদালত তপন বিশ্বাসকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয়।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বনগাঁ এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। নিজের বাবার বিরুদ্ধে আদালতে দাঁড়িয়ে সাক্ষ্য দেওয়ার ঘটনায় নাবালক ছেলের সাহস ও মানসিক অবস্থাও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।



















