রাজ্য – রাজ্যে গবাদি পশুহত্যা সংক্রান্ত নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে বিজেপি সরকার। স্পষ্ট জানানো হয়েছে, যত্রতত্র বা নিয়ম বহির্ভূতভাবে পশুহত্যা করা যাবে না। সামনেই কোরবানির ঈদ। তার আগেই এই নির্দেশিকা ঘিরে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী Suvendu Adhikari-র কাছে চিঠি পাঠালেন আইএসএফ বিধায়ক Naushad Siddique।
ক্ষমতায় আসার পর থেকেই একাধিক প্রশাসনিক নির্দেশিকা জারি করেছে নতুন রাজ্য সরকার। সম্প্রতি ১৯৫০ সালের পশ্চিমবঙ্গ প্রাণিসম্পদ আইন অনুযায়ী প্রকাশ্যে গবাদি পশুর মাংস কাটা ও বিক্রির ক্ষেত্রে একাধিক নতুন নিয়ম কার্যকর করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র দপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গরু, মহিষ, বলদ বা বাছুরের মতো গবাদি পশু জবাইয়ের ক্ষেত্রে এবার থেকে নির্দিষ্ট নিয়ম মানতেই হবে। নিয়ম বহির্ভূতভাবে পশুহত্যা করলে তা দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
এই নির্দেশিকা প্রকাশের পর থেকেই বিশেষ করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভ্রান্তি ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ। সেই প্রেক্ষিতেই মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়ে চিঠি দিয়েছেন নওশাদ সিদ্দিকী।
চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেছেন, পশ্চিমবঙ্গ পশু জবাই নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৫০-এর ১২ নম্বর ধারা অনুযায়ী রাজ্য সরকার বিশেষ পরিস্থিতিতে বা নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে ধর্মীয়, চিকিৎসাগত অথবা গবেষণামূলক উদ্দেশ্যে পশু জবাইয়ের ক্ষেত্রে ছাড় দিতে পারে। তাঁর দাবি, এই আইনের বিধান কার্যকর করলে যেমন ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ হবে না, তেমনই পশু ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কাও কমবে।
সামাজিক মাধ্যমেও চিঠির বিষয়বস্তু প্রকাশ করেছেন ভাঙড়ের বিধায়ক। সেখানে তিনি লেখেন, “রাজ্য সরকার যদি আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ছাড় দেয়, তাহলে ধর্মীয় স্বাধীনতা বজায় থাকবে এবং হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে পশু ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষতিও হবে না।” একইসঙ্গে তিনি মুখ্যমন্ত্রীর দ্রুত হস্তক্ষেপের আবেদন জানিয়েছেন।
কোরবানির ঈদের আগে এই বিষয়টি ঘিরে রাজনৈতিক তরজা আরও বাড়তে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।




















