হাসপাতালের ওপিডি চালু হবে ঘড়ির কাঁটা মেনে, স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় ‘জিরো টলারেন্স’ বার্তা নতুন সরকারের

হাসপাতালের ওপিডি চালু হবে ঘড়ির কাঁটা মেনে, স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় ‘জিরো টলারেন্স’ বার্তা নতুন সরকারের

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


রাজ্য – সরকারি হাসপাতালের পরিষেবা আরও শৃঙ্খলাবদ্ধ ও স্বচ্ছ করতে বড় পদক্ষেপের পথে রাজ্য সরকার। সোমবার স্বাস্থ্যভবনে অনুষ্ঠিত এক হাইভোল্টেজ বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, এবার থেকে সরকারি হাসপাতালের ওপিডি নির্ধারিত সময়েই চালু করতে হবে। এক মিনিটও দেরি করা চলবে না। মুখ্যমন্ত্রী Suvendu Adhikari-র নির্দেশে আয়োজিত এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের একাধিক চিকিৎসক-বিধায়ক ও স্বাস্থ্য দপ্তরের শীর্ষ আধিকারিকরা।
বৈঠকে যোগ দেন চিকিৎসক-বিধায়ক ডা. ইন্দ্রনীল খাঁ, ডা. অরূপ কুমার দাস, ডা. সময় হীরা, ডা. শারদ্বত মুখোপাধ্যায়, ডা. বিজন মুখোপাধ্যায়, ডা. অজয় পোদ্দার, ডা. পীযুষ কান্তি দাস এবং ডা. হরেকৃষ্ণ বেরা। উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিকর্তা ডা. স্বপন সোরেন, স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণ স্বরূপ নিগম-সহ স্বাস্থ্য শিক্ষা দপ্তরের অন্যান্য আধিকারিকরাও।
বৈঠক শেষে ডা. শারদ্বত মুখোপাধ্যায় জানান, মূলত চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ২০২৪ সালে আর জি কর মেডিক্যাল কলেজে তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার পর হাসপাতালের নিরাপত্তা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছিল, তা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। সিদ্ধান্ত হয়েছে, প্রতিটি সরকারি হাসপাতালের নিরাপত্তা আরও কড়া করা হবে এবং সিসিটিভির সংখ্যা বাড়ানো হবে। পাশাপাশি হাসপাতালগুলিতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের উপর হামলার ঘটনা রুখতেও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সম্প্রতি পুরুলিয়ার পুঞ্চা ব্লক হাসপাতালে শিশু মৃত্যুর পর চিকিৎসক নিগ্রহের অভিযোগ উঠেছিল। সেই প্রসঙ্গ তুলে চিকিৎসক-বিধায়করা স্পষ্ট জানান, হাসপাতালে চিকিৎসক নিগ্রহের ঘটনা শূন্যে নামিয়ে আনাই এখন সরকারের লক্ষ্য।
বৈঠকে ওয়েস্ট বেঙ্গল মেডিক্যাল এডুকেশন সার্ভিস, ওয়েস্ট বেঙ্গল হেলথ সার্ভিস, বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ এবং স্বাস্থ্য পরিকাঠামো নিয়েও আলোচনা হয়েছে। প্রায় আড়াই ঘণ্টার বৈঠকে চিকিৎসকদের বদলি ও পোস্টিংয়ে ‘স্বজনপোষণ’-এর অভিযোগও ওঠে। বিধায়ক ডা. ইন্দ্রনীল খাঁ জানান, “এবার থেকে স্বাস্থ্য দপ্তরে নেপোটিজম পুরোপুরি বন্ধ করা হবে। শুধুমাত্র মেধার ভিত্তিতেই পোস্টিং ও বদলি হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে নতুন সরকারের নীতি একেবারে জিরো টলারেন্স।”
এদিন স্বাস্থ্য দপ্তরে সিন্ডিকেট রাজ এবং টেন্ডার দুর্নীতির প্রসঙ্গও উঠে আসে। আর জি কর মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনাকাটায় দুর্নীতির অভিযোগ এবং প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়েও আলোচনা হয়। সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, হাসপাতালকে “আরোগ্যের মন্দির” হিসেবেই গড়ে তোলা হবে এবং সেখানে কোনও সিন্ডিকেট চলবে না।
এছাড়াও জঙ্গলমহলের স্বাস্থ্য পরিকাঠামো উন্নয়ন নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। ঝাড়গ্রামের বিনপুরের বিধায়ক প্রণত টুডু জানিয়েছেন, বেলপাহাড়ি হাসপাতালের বেড সংখ্যা ৬০ থেকে বাড়িয়ে ১০০ করার দাবি তোলা হয়েছে। ঝাড়গ্রাম মেডিক্যাল কলেজে ট্রমা কেয়ার ইউনিট চালু করা এবং গ্রামীণ হাসপাতালে এমআরআই পরিষেবা চালুর বিষয়েও প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে।
স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে স্বচ্ছ, আধুনিক এবং জনমুখী করে তুলতেই নতুন সরকার একাধিক বড় পরিবর্তনের পথে হাঁটছে বলে প্রশাসনিক মহলের মত।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top