রাজ্য – রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর প্রশাসনিক সংস্কৃতিতেও বদলের ইঙ্গিত দিল নতুন সরকার। গত ১৫ বছরে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক বৈঠকে বিরোধী দলের বিধায়কদের না ডাকার অভিযোগ বারবার উঠেছিল। এবার মুখ্যমন্ত্রীর আসনে Suvendu Adhikari বসার পর সেই ছবিতে পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। উত্তরবঙ্গ সফরে গিয়ে প্রশাসনিক বৈঠকে বিরোধী দলের বিধায়ককেও আমন্ত্রণ জানাল রাজ্য সরকার।
বুধবার প্রথমবার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে উত্তরবঙ্গ সফরে যাচ্ছেন শুভেন্দু অধিকারী। জানা গিয়েছে, উত্তরকন্যায় সাত জেলার বিধায়ক এবং প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন তিনি। ওই বৈঠকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে সূত্রের খবর। পাশাপাশি একটি সেতুর উদ্বোধনও করার কথা রয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর।
তবে এই সফরের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হল, সিতাইয়ের তৃণমূল বিধায়ক সঙ্গীতা রায়কেও ওই প্রশাসনিক বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এ এক বড় পরিবর্তনের বার্তা। কারণ, তৃণমূল সরকারের আমলে বিরোধী দলের কোনও বিধায়ককে প্রশাসনিক বৈঠকে ডাকা হত না বলেই অভিযোগ ছিল। এবার সেই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে প্রশাসনিক আলোচনায় বিরোধী শিবিরের প্রতিনিধিকেও অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও সঙ্গীতা রায় শেষ পর্যন্ত বৈঠকে যোগ দেবেন কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে উত্তরবঙ্গে বিজেপির ব্যাপক সাফল্য এসেছে। একাধিক জেলায় কার্যত ভরাডুবি হয়েছে তৃণমূলের। কয়েকটি জেলায় খাতাও খুলতে পারেনি ঘাসফুল শিবির। ফলে উত্তরবঙ্গের মানুষের প্রত্যাশাও এখন নতুন সরকারের উপর অনেকটাই বেড়েছে।
নির্বাচনী প্রচারে এসে Narendra Modi এবং Amit Shah উত্তরবঙ্গের উন্নয়নে একাধিক প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। আইআইটি, এইমস, ক্যানসার হাসপাতাল-সহ বিভিন্ন বড় প্রকল্প গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছিল। পাশাপাশি পরিকাঠামো উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের দিকেও জোর দেওয়া হয়েছিল বিজেপির প্রচারে।
এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রথম উত্তরবঙ্গ সফর ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে যথেষ্ট আগ্রহ তৈরি হয়েছে। জেলা প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি কী বার্তা দেন এবং উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন নিয়ে কী কী ঘোষণা করেন, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে সকলের।




















