রাজ্য – রাজ্য সরকারের আর্থিক পরিস্থিতি সামাল দিতে এবার কড়া প্রশাসনিক পদক্ষেপের পথে হাঁটল নবান্ন। সোমবার মুখ্যসচিবের দপ্তরের তরফে একটি নির্দেশিকা জারি করে রাজ্যের সমস্ত সরকারি দপ্তর ও জেলা প্রশাসনকে ব্যয় সংকোচনের জন্য একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই সেই নির্দেশিকা পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে সব দপ্তরের প্রধান এবং জেলাশাসকদের কাছে।
মুখ্যসচিব Manoj Kumar Agarwal নির্দেশিকায় জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী Suvendu Adhikari বারবার সরকারি সম্পদের দক্ষ ব্যবহার, অপ্রয়োজনীয় জ্বালানি খরচ কমানো, গণপরিবহন ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার বৃদ্ধি এবং রাজ্যের নিজস্ব পণ্যের প্রচারের উপর জোর দিয়েছেন। সেই লক্ষ্যেই প্রতিটি দপ্তরকে নির্দিষ্ট কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করতে বলা হয়েছে।
নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, সরকারি কাজ ও পর্যালোচনার ক্ষেত্রে ভিডিও কনফারেন্সিং, ভার্চুয়াল মিটিং এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার আরও বাড়াতে হবে। যেখানে সম্ভব, কাজের দক্ষতা বজায় রেখে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’-এর সুযোগও তৈরি করতে বলা হয়েছে।
এছাড়াও অপ্রয়োজনীয় সরকারি ভ্রমণ কমিয়ে গণপরিবহন, কারপুল এবং বৈদ্যুতিক যানবাহনের ব্যবহার বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারি অফিসে শক্তি সঞ্চয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ, কাগজবিহীন প্রশাসনিক ব্যবস্থা বা ই-অফিস চালুর উপরও জোর দেওয়া হয়েছে।
রাজ্যের দপ্তরগুলিকে দেশীয়ভাবে উৎপাদিত পণ্যের ব্যবহার বাড়ানো এবং স্বদেশি উদ্যোগকে উৎসাহিত করার কথাও বলা হয়েছে। পাশাপাশি দক্ষ সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলা, বর্জ্য হ্রাস, পুনর্ব্যবহার এবং প্রাকৃতিক সম্পদের দায়িত্বশীল ব্যবহারের উপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।
নির্দেশিকায় স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা ও পরিবেশবান্ধব অভ্যাস সম্পর্কেও সচেতনতা বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত ভোজ্য তেলের ব্যবহার, প্রাকৃতিক কৃষি পদ্ধতি এবং পরিবেশবান্ধব উদ্যোগকে উৎসাহ দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
রাজ্যের প্রতিটি দপ্তর ও জেলা প্রশাসনকে অবিলম্বে একটি অ্যাকশন প্ল্যান তৈরি করতে বলা হয়েছে। সেই পরিকল্পনায় স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি এবং দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপের রূপরেখা থাকতে হবে। আগামী ২২ তারিখের মধ্যে সেই রিপোর্ট মুখ্যসচিবের দপ্তরে জমা দিতে হবে। পাশাপাশি ১ জুলাই থেকে মাসিক রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশও জারি হয়েছে।




















