কলকাতা – মাত্র পাঁচ দিনের ব্যবধানে ফের বাড়ল পেট্রল ও ডিজেলের দাম। গত শুক্রবার দেশজুড়ে লিটারপিছু তিন টাকা করে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির পর মঙ্গলবার সকাল থেকেই আবার নতুন করে কার্যকর হয়েছে বাড়তি দাম। এবার প্রত্যেক শহরে বৃদ্ধির হার আলাদা হলেও সবচেয়ে বেশি ধাক্কা খেয়েছে কলকাতা। দিল্লি ও চেন্নাইয়ের তুলনায় তিলোত্তমায় জ্বালানির দাম অনেকটাই বেশি বেড়েছে।
নতুন মূল্য অনুযায়ী, কলকাতায় পেট্রলের দাম লিটারপিছু বেড়েছে ৯৬ পয়সা এবং ডিজেলের দাম বেড়েছে ৯৪ পয়সা। ফলে শহরে বর্তমানে পেট্রলের দাম দাঁড়িয়েছে লিটারপিছু ১০৯.৭০ টাকা এবং ডিজেলের দাম ৯৬.০৭ টাকা। মাত্র কয়েকদিন আগের মূল্যবৃদ্ধির ধাক্কা সামলাতে না সামলাতেই ফের এই দাম বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব ইতিমধ্যেই পড়তে শুরু করেছে পরিবহণ ক্ষেত্রেও। বাসচালকদের সংগঠনগুলি বাসভাড়া বাড়ানোর দাবি জানিয়ে সরকারের কাছে চিঠি দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর মধ্যেই ফের পেট্রল-ডিজেলের দাম বাড়ায় নিত্যযাত্রীরা আরও চাপে পড়েছেন।
দেশের অন্যান্য মহানগরীতেও বেড়েছে জ্বালানির দাম। দিল্লিতে পেট্রলের দাম বেড়েছে ৮৭ পয়সা এবং ডিজেলের দাম ৯১ পয়সা। চেন্নাইয়ে পেট্রল ৮২ পয়সা ও ডিজেল ৮৬ পয়সা বেড়েছে। মুম্বইয়ে পেট্রলের দাম বেড়েছে ৯১ পয়সা, ডিজেলের দাম বেড়েছে ৯৪ পয়সা।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবারই পেট্রল ও ডিজেলের দাম লিটারপিছু তিন টাকা বাড়ানো হয়েছিল। একইসঙ্গে বেড়েছে সিএনজির দামও। কলকাতায় কেজিপ্রতি সিএনজির দাম বেড়েছে তিন টাকা। সেই ধাক্কা কাটার আগেই ফের জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়িয়ে দিল।
চলতি বছরের শুরুতে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পর থেকেই জ্বালানির দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। যদিও প্রায় ১১ সপ্তাহ ধরে দাম বৃদ্ধি এড়িয়ে চলেছিল তেল সংস্থাগুলি। রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের কথা মাথায় রেখেই এতদিন দাম বাড়ানো হয়নি।
লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী আগেই দাবি করেছিলেন, নির্বাচন শেষ হলেই জ্বালানির দাম বাড়বে। শুক্রবার মূল্যবৃদ্ধির পর কংগ্রেসের তরফে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ‘ম্যাহেঙ্গাই ম্যান’ বলে কটাক্ষ করা হয়। তাদের অভিযোগ, ভোটের আগে স্বস্তির বার্তা দিয়ে নির্বাচন মিটতেই সাধারণ মানুষের উপর মূল্যবৃদ্ধির বোঝা চাপাচ্ছে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার।
প্রসঙ্গত, ২০২২ সালের পর থেকে দীর্ঘ সময় পেট্রল ও ডিজেলের দাম অপরিবর্তিত ছিল। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির জেরেই এবার লাগাতার মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা বাড়ছে।




















