কলকাতা – রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর একের পর এক দুর্নীতি ও তোলাবাজির অভিযোগ সামনে আসতে শুরু করেছে। তৃণমূলের শাসনকালে চুনোপুঁটি থেকে রাঘববোয়াল— সকলেই দুর্নীতিতে জড়িত বলে বারবার অভিযোগ তুলেছিল তৎকালীন বিরোধী দল বিজেপি। এবার প্রশাসনিক পরিবর্তনের পর সেই অভিযোগ ঘিরেই শুরু হয়েছে একের পর এক তদন্ত ও গ্রেপ্তারি অভিযান।
সোমবার রাতে তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বিধাননগর পুরসভার ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সুশোভন মণ্ডল ওরফে মাইকেলকে। পুলিশ সূত্রে খবর, কেষ্টপুর এলাকায় একটি দোকান সংস্কারের জন্য দোকানদারের কাছ থেকে কয়েক লক্ষ টাকা দাবি করেছিলেন ওই কাউন্সিলর। অভিযোগ, দাবি মতো টাকা না দেওয়ায় দোকানের সংস্কারের কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপরই বাগুইআটি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন ওই ব্যবসায়ী। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ সুশোভন মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করেছে।
অন্যদিকে, লুটপাট, হুমকি ও তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে অন্ডালের ছোড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল প্রধান রামচরিত পাশওয়ানকে। অভিযোগ, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের সময় থেকেই এলাকায় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তোলাবাজি, মারধর ও ভয় দেখানোর রাজত্ব চালাতেন তিনি। বিশেষ করে বিজেপি সমর্থকদের নিশানা করা হত বলেই অভিযোগ স্থানীয়দের।
এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই একাধিক অভিযোগ থাকলেও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে প্রশাসন কোনও পদক্ষেপ নেয়নি। তবে সরকার পরিবর্তনের পর পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রীর ‘জিরো টলারেন্স’ বার্তার পর থেকেই একের পর এক অভিযোগ খতিয়ে দেখা শুরু হয়েছে। সেই তদন্তের জেরেই শেষ পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা হয়েছে রামচরিত পাশওয়ানকে। মঙ্গলবার তাঁকে দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হবে বলে জানা গিয়েছে।




















