রাজ্য – রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের পুত্র চিকিৎসক ডা. বৈদ্যনাথ ঘোষ দস্তিদারের পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে। জানা গিয়েছে, তিনি তৃণমূল সুপ্রিমো তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ দলের একাধিক শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে আইনি নোটিস পাঠিয়েছেন।
সূত্রের খবর, পাঠানো নোটিসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশাপাশি তৃণমূলের সাংসদ মহুয়া মৈত্র, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, সৌগত রায় এবং প্রাক্তন বিধায়ক সোনালী গুহর নামও উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ, বিভিন্ন সময়ে জনসভা ও সংবাদমাধ্যমে এমন কিছু মন্তব্য করা হয়েছে, যার মাধ্যমে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে ডা. বৈদ্যনাথ ঘোষ দস্তিদার বারাসত বিধানসভা কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন এবং সেই সুযোগ না পাওয়ায় তাঁর মা রাজনৈতিকভাবে ভিন্ন অবস্থান নিয়েছেন।
এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, অসত্য এবং মানহানিকর বলে দাবি করেছেন বৈদ্যনাথ ঘোষ দস্তিদার। তাঁর পাঠানো আইনি নোটিসে উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি একজন উচ্চশিক্ষিত মনোরোগ বিশেষজ্ঞ এবং আন্তর্জাতিক স্তরে চিকিৎসা ক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস জেনারেল হাসপাতাল ও হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের সেন্ট্রাল অ্যান্ড নর্থ ওয়েস্ট লন্ডন এনএইচএস ফাউন্ডেশন ট্রাস্টেও পেশাগত দায়িত্ব পালন করেছেন।
নোটিসে তিনি স্পষ্টভাবে দাবি করেছেন যে, বারাসত বিধানসভা কেন্দ্র থেকে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার জন্য তিনি কখনও কোনও রাজনৈতিক দলের কাছে আবেদন করেননি কিংবা এ ধরনের কোনও রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষাও তাঁর ছিল না। বরং তাঁর দাবি, ইন্ডিয়ান পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি (আইপিএসি)-র প্রতিনিধিরা এবং তৎকালীন বারাসত জেলা টিএমসিপি-র সঙ্গে যুক্ত সোহম পাল একাধিকবার তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন।
এছাড়াও বিভিন্ন স্বাস্থ্য শিবির ও জনস্বাস্থ্য সংক্রান্ত কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের জন্য তাঁকে নিয়মিত আমন্ত্রণ জানানো হত বলেও নোটিসে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁর সম্পর্কে ভুল তথ্য প্রচার করা হয়েছে, যা তাঁর ব্যক্তিগত ও পেশাগত ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
জানা গিয়েছে, পাঠানো আইনি নোটিসে সংশ্লিষ্ট নেতাদের উদ্দেশে একাধিক দাবি জানানো হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই তীব্র জল্পনা শুরু হয়েছে। তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে এমন পদক্ষেপ ভবিষ্যতে কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।



















