বিনোদন – দক্ষিণী চলচ্চিত্র জগতের জনপ্রিয় তারকা জুটি বিজয় দেবেরাকোন্ডা ও রশ্মিকা মান্দান্না তাঁদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে তেলেঙ্গানার ১৮০ জন মেধাবী ও আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা ছাত্রছাত্রীর শিক্ষার দায়িত্ব গ্রহণ করলেন। উচ্চশিক্ষার পথে এগিয়ে যেতে নির্বাচিত পড়ুয়াদের বৃত্তি প্রদান করা হবে বলে জানিয়েছেন এই তারকা দম্পতি।
রবিবার নিজেদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বৃত্তিপ্রাপ্ত ছাত্রছাত্রীদের তালিকা প্রকাশ করেন বিজয় ও রশ্মিকা। শিক্ষার প্রসারে তাঁদের এই উদ্যোগ ইতিমধ্যেই প্রশংসা কুড়িয়েছে অনুরাগী এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে।
কয়েক মাস আগে তেলেঙ্গানার আচামপেট মণ্ডলের থুম্মানপেট গ্রাম পরিদর্শনে গিয়েছিলেন এই তারকা জুটি। গ্রামটি বিজয় দেবেরাকোন্ডার পৈতৃক পরিবারের সঙ্গে যুক্ত। সেই সফরেই স্থানীয় মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের উচ্চশিক্ষার জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদানের ঘোষণা করেছিলেন তাঁরা। তাঁদের বক্তব্য ছিল, দীর্ঘদিন ধরে মানুষের কাছ থেকে পাওয়া ভালোবাসা ও সমর্থনের প্রতিদান হিসেবে সমাজের জন্য কিছু করার সময় এসেছে।
বৃত্তিপ্রাপকদের নাম ঘোষণা করে বিজয় দেবেরাকোন্ডা তাঁর সামাজিক মাধ্যমের পোস্টে জানান, প্রতিশ্রুতি পূরণের পথে তাঁরা আরও এক ধাপ এগোলেন। তিনি লেখেন, তাঁর বাবার জন্মস্থান সেই ছোট্ট গ্রাম থেকেই এই স্বপ্নের সূচনা হয়েছিল। ফেব্রুয়ারিতে রশ্মিকার সঙ্গে গ্রামটি সফর করার সময় যে বৃত্তি প্রকল্পের ঘোষণা করা হয়েছিল, তা বাস্তবায়িত করতে পেরে তাঁরা অত্যন্ত আনন্দিত। পাশাপাশি নির্বাচিত ১৮০ জন ছাত্রছাত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, তাঁদের সাফল্য পরিবার এবং সমাজের জন্য গর্বের বিষয়।
ফেব্রুয়ারি মাসে গ্রাম সফরের সময় বিজয় বলেছিলেন, এই বৃত্তি হয়তো খুব বড় সহায়তা নয়, কিন্তু শিক্ষার্থীদের জীবনের অংশ হতে পারাটাই তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে এই উদ্যোগ শুধু একটি গ্রামে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং ধীরে ধীরে গোটা তেলেঙ্গানায় ছড়িয়ে দেওয়া হবে। এটিকেই তিনি নিজের স্বপ্ন বলে উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে রশ্মিকা মান্দান্নাও এই উদ্যোগ নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘দ্য দেবেরাকোন্ডা ফাউন্ডেশন’-এর মাধ্যমে একটি ইতিবাচক সামাজিক কাজের সূচনা হয়েছে। থুম্মানপেট গ্রাম থেকেই এই প্রকল্প শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল এবং শিক্ষার্থীদের সম্মান জানাতে পেরে তিনি গর্বিত ও আনন্দিত।
সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধ এবং শিক্ষার প্রসারে তারকাদের এমন উদ্যোগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন অনেকেই।




















