পূর্ব মেদিনীপুর – পূর্ব মেদিনীপুর জেলাকে নতুনভাবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে দিঘায় অনুষ্ঠিত প্রশাসনিক বৈঠকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়নমূলক পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রবিবার অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে জেলার প্রশাসনিক আধিকারিক, পুলিশ সুপার, মহকুমা শাসক, জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন দফতরের শীর্ষ কর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রায় দু’ঘণ্টাব্যাপী চলা বৈঠকে জেলার সার্বিক উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী জেলার উন্নয়নের গতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, পূর্ব মেদিনীপুরে সমুদ্র, কৃষি, শিল্পসহ উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের সম্পদ রয়েছে। সেই তুলনায় জেলার সম্ভাবনা দীর্ঘদিন ধরে সঠিকভাবে কাজে লাগানো হয়নি। বর্তমান সরকার সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটিয়ে জেলার সামগ্রিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর বলে জানান তিনি।
দিঘাকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও বৈঠকে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়। পর্যটন পরিকাঠামো আরও উন্নত করার পাশাপাশি পর্যটকদের সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
নয়াচরে মৎস্য হাব গড়ে তোলার সম্ভাবনা নিয়েও বৈঠকে দীর্ঘ আলোচনা হয়। একইসঙ্গে গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণের বিষয়টি নিয়েও প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে বিস্তারিত পর্যালোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। জেলার অর্থনৈতিক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করতে এই প্রকল্পগুলিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে সূত্রের খবর।
শিল্পনগরী হলদিয়ার উন্নয়ন নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। হলদিয়াকে নতুনভাবে সাজিয়ে তোলার পাশাপাশি শিল্প বিনিয়োগ বৃদ্ধির পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। বন্ধ হয়ে থাকা শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলিকে পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ এবং নতুন শিল্প আনার বিষয়েও জোর দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে বন্দরের নাব্যতা বৃদ্ধির কাজ দ্রুত শুরু করার কথাও জানানো হয়েছে।
দিঘা হাসপাতালের পরিকাঠামো নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। স্বাস্থ্য পরিষেবার মানোন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও সমুদ্রসৈকতে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নুলিয়ার সংখ্যা বৃদ্ধি এবং তাঁদের বেতন বৃদ্ধির বিষয়েও ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পর্যটকদের স্বস্তি দিতে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণাও করা হয়েছে বৈঠকে। পর্যটকদের কাছ থেকে পূর্বতন সরকারের আমলে আদায় করা মাথাপিছু ১০ টাকার কর প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
সূত্রের খবর, আগামী ২২ তারিখ বিধানসভার প্রথম বাজেট অধিবেশনে এই বৈঠকে আলোচিত এবং অনুমোদিত বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প ও পরিকল্পনা আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করা হতে পারে।



















