খেলা – বিশ্বকাপের মঞ্চে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দিয়ে অভিযান শুরু করল চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানি। রবিবার হিউস্টন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে কুরাসাওকে ৭-১ গোলে পরাজিত করে শক্তিশালী বার্তা দিল হুলিয়ান নাগেলসম্যানের দল। একসময় কুরাসাও সমতা ফেরালেও পরে জার্মান আক্রমণের সামনে কার্যত অসহায় হয়ে পড়ে প্রতিপক্ষ।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে জার্মানি। দ্রুত পাসিং, শারীরিক সক্ষমতা এবং ধারাবাহিক আক্রমণের মাধ্যমে কুরাসাওকে চাপে রাখেন জার্মান ফুটবলাররা। তৃতীয় মিনিটেই নাথানিয়াল ব্রাউন সুযোগ তৈরির চেষ্টা করলেও সফল হননি।
তবে ষষ্ঠ মিনিটে প্রথম গোল পেয়ে যায় জার্মানি। ফ্লোরিয়ান ভির্ৎজের নিখুঁত পাস থেকে বল পান ফেলিক্স এনমেচা। সুযোগ কাজে লাগিয়ে ডান কোণে দুর্দান্ত শটে বল জালে জড়িয়ে দলকে এগিয়ে দেন তিনি। কুরাসাওয়ের গোলরক্ষক এলোই রুম সেই শট ঠেকানোর সুযোগ পাননি।
জার্মানির একতরফা আধিপত্যের মাঝেই ২১ মিনিটে ম্যাচে চমক এনে দেয় কুরাসাও। জার্গেন লোকাডিয়ার প্রথম প্রচেষ্টা প্রতিহত হলেও ফিরতি বলে নিয়ন্ত্রণ নেন লিভানো কোমেনেনসিয়া। তার নেওয়া শট জশুয়া কিমিচের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে গোলরক্ষক ম্যানুয়েল ন্যুয়ারকে পরাস্ত করে জালে জড়িয়ে যায়। ফলে ম্যাচে ১-১ সমতা ফেরায় কুরাসাও।
তবে সমতা ফেরানোর পর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে জার্মানি। ৩৮ মিনিটে কর্নার কিক থেকে নিকো শ্লটারবেক হেডের মাধ্যমে গোল করে দলকে আবারও এগিয়ে দেন। প্রথমার্ধের একেবারে শেষ দিকে ফেলিক্স এনমেচাকে বক্সের মধ্যে ফেলে দিলে পেনাল্টির নির্দেশ দেন রেফারি। স্পট কিক থেকে গোল করে ব্যবধান ৩-১ করেন কাই হ্যাভার্টজ।
প্রথমার্ধে ৩-১ গোলে এগিয়ে থাকার পর দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণের ধার বজায় রাখে জার্মানি। একের পর এক আক্রমণে কুরাসাওয়ের রক্ষণভাগকে চাপে রেখে আরও চারটি গোল করে ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী দলটি। শেষ পর্যন্ত ৭-১ গোলের বড় ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে বিশ্বকাপ মিশন সফলভাবে শুরু করে জার্মানি।
এই জয়ের মাধ্যমে জার্মান ফুটবলপ্রেমীদের মনে ২০১৪ বিশ্বকাপে ব্রাজিলকে ৭-১ গোলে হারানোর স্মৃতিও নতুন করে উজ্জীবিত হয়েছে। নাগেলসম্যানের দল তাদের প্রথম ম্যাচেই শিরোপার লড়াইয়ে নিজেদের শক্ত অবস্থানের ইঙ্গিত দিল।




















