কলকাতা – একদিকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ১০৯ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়, অন্যদিকে সেই সময়ই তাঁর ওয়ার্ড অফিসে বিক্ষোভ ও জনরোষের ঘটনা ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়ায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, অফিস থেকে নগদ টাকা, বিভিন্ন সামগ্রী এবং প্রোমোটারদের কাছ থেকে তোলা আদায়ের তথাকথিত রেটচার্ট উদ্ধার হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে দাবি, অফিসের বিভিন্ন আলমারি থেকে নগদ অর্থ পাওয়া যায়। বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল টাকা। শুধু তাই নয়, ত্রাণসামগ্রী, জামাকাপড় এবং একাধিক গৃহস্থালির সামগ্রীও উদ্ধার হয়েছে বলে অভিযোগ। এলাকার কিছু বাসিন্দার বক্তব্য, অফিসে মাইক্রোওয়েভ, ফ্রিজ, খাট-সহ নানা সামগ্রী রাখা ছিল। এমনকি সেখানে একটি মেকআপ রুমও রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগকারীদের আরও দাবি, এলাকায় প্রোমোটারদের কাছ থেকে নিয়মিত তোলা আদায় করা হত। সেই সংক্রান্ত একটি রেটচার্টও অফিস থেকে পাওয়া গিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই সন্ত্রাস ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগ রয়েছে বলেও দাবি স্থানীয়দের একাংশের।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে চাপানউতোর। বিজেপি বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ বলেন, অভিযোগগুলির নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। বিজেপি নেত্রী রূপা গঙ্গোপাধ্যায়ও ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, তৃণমূলের বিভিন্ন নেতা-নেত্রীর বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ সামনে আসছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
অন্যদিকে, সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন তৃণমূল কাউন্সিলর অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, ওয়ার্ড অফিসে বিভিন্ন সামগ্রী থাকাটা অস্বাভাবিক নয়। সম্প্রতি ঈদ উৎসব উপলক্ষে কিছু জামাকাপড় সেখানে রাখা হয়েছিল বলেও তিনি জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, এর মধ্যে কোনও বেআইনি বা অস্বাভাবিক বিষয় নেই এবং এমন ঘটনা রাজ্যের বিভিন্ন জায়গাতেই দেখা যায়।
ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে। অভিযোগের সত্যতা এবং উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর উৎস খতিয়ে দেখতে তদন্তের দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।



















