দিল্লি পুলিশের জালে ৭ সন্দেহভাজন জঙ্গি, বিস্ফোরণ ও অস্ত্র পাচারের ছক ভেস্তে দেওয়ার দাবি

দিল্লি পুলিশের জালে ৭ সন্দেহভাজন জঙ্গি, বিস্ফোরণ ও অস্ত্র পাচারের ছক ভেস্তে দেওয়ার দাবি

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram



দিল্লী – পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের মদতে ভারতে নাশকতার ছক কষার অভিযোগে সাতজন সন্দেহভাজন জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করেছে দিল্লি পুলিশ। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, রাজধানী দিল্লি-সহ দেশের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ধারাবাহিক বিস্ফোরণের পরিকল্পনা ছিল এই চক্রের। ধৃতদের সঙ্গে পাকিস্তানি গ্যাংস্টার শাহজাদ ভট্টি এবং তার সহযোগী আজমল গুজ্জরের যোগাযোগ ছিল বলেও প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে বলে সূত্রের খবর।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। দিল্লি পুলিশের দাবি, এই চক্রটি পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের নির্দেশে বিভিন্ন ধরনের বেআইনি ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল। সন্ত্রাসবাদী হামলার পরিকল্পনা, অস্ত্র ও মাদক পাচার এবং দেশের নিরাপত্তা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহের মতো কাজের সঙ্গে তাদের যোগসূত্র থাকার অভিযোগ উঠেছে।

তদন্তে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, পাকিস্তান থেকে অস্ত্র, গোলাবারুদ এবং হেরোইনের মতো মাদকদ্রব্য পাঞ্জাব সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাচার করা হত। পরে সেই অস্ত্র ও মাদক দেশের বিভিন্ন অংশে, বিশেষ করে দিল্লি এবং উত্তর ভারতের কয়েকটি রাজ্যে ছড়িয়ে দেওয়া হতো। গোয়েন্দাদের দাবি, এই গোটা নেটওয়ার্ক পরিচালনার ক্ষেত্রে ধৃতদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।

সম্প্রতি গোপন সূত্রে এই চক্রের কার্যকলাপ সম্পর্কে তথ্য পায় গোয়েন্দা সংস্থাগুলি। এরপর দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেলের ইস্টার্ন রেঞ্জ তদন্ত শুরু করে। দীর্ঘ নজরদারি ও গোপন অভিযানের পর অবশেষে সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার চেষ্টা চলছে।

ধৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোন ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইস থেকে দিল্লি-সহ উত্তর ভারতের একাধিক সংবেদনশীল স্থানের ছবি ও তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছে পুলিশ। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, এই তথ্যগুলি কোনও সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতির অংশ ছিল কি না।

এই গ্রেপ্তারির পর রাজধানী দিল্লিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবন, জনবহুল এলাকা এবং কৌশলগত স্থানে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। একইসঙ্গে ধৃতদের আন্তর্জাতিক ও আন্তঃরাজ্য যোগাযোগের সূত্রও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। ফলে ধৃতদের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হওয়া বাকি। তবে এই অভিযানের মাধ্যমে একটি সম্ভাব্য নাশকতার ছক ভেস্তে দেওয়া গেছে বলেই মনে করছে নিরাপত্তা মহলের একাংশ।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top